✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
রাজধানীর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন-ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পশ্চিমের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি সারোয়ার আলম পিয়াস, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ ওরফে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাতে মিরপুর এলাকা থেকে রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে শাহ আলী থানা-পুলিশ। এছাড়া শনিবার শেওড়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিয়াসকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ নিয়ে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হলো। তিনি আরও জানান, গ্রেফতার কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পেছনে কারা নির্দেশদাতা হিসেবে কাজ করেছেন, তাদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে তাদেরও গ্রেফতার করা হবে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সেন্টারটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহআলী থানায় মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় জড়িত অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল এবং শাহআলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিনসহ আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তে এসেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
হামলার পর গত রোববার থেকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। ঘটনার পরদিন থেকেই সেন্টারের সামনে টিকাদান কর্মসূচিও চালু করা হয়।
শনিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, মূল ফটকের ভেতরে টিনশেডের ছাউনি দিয়ে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। মূল ভবনে চলছে সংস্কারকাজ। ভাঙা দেয়ালে ইটের কাজ শেষে প্লাস্টার করা হচ্ছে। নতুন জানালায় লোহার গ্রিল বসানো হয়েছে। দরজা লাগানোর কাজও প্রায় শেষ। বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ দেওয়া হয়েছে। পেছনের নিরাপত্তাদেয়ালের কাজও শেষ পর্যায়ে। এ সময় সেন্টারে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে অবস্থান করতে দেখা যায়।
রাড্ডার কর্মকর্তারা জানান, শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিশুদের টিকাদান ও মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু ছিল। টিকাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে ৫৬ জনকে।
দুই মাস বয়সী সালেহ হুমাইদকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা তার বাবা শাহাদাত বলেন, অন্য জায়গায় চিকিৎসা নিতে কিছু টাকা দিতে হয়। এখানে বিনামূল্যে সেবা পাওয়া যায়। বাসার কাছে হওয়ায় সুবিধা হয়।
রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, প্রাথমিকভাবে সংস্কারকাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনো অনেক কাজ বাকি। পুরোদমে সেবা চালু করতে আরও অন্তত ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
