✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে প্রায় ২৮০ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ বলছে, জাসদ কার্যালয়ে নিষিদ্ধ কার্যক্রমে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে নাশকতা বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারা কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
শনিবার বিকেল ৩টার দিকে জাসদের কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরপর একের পর এক প্রিজন ভ্যান এনে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা লোকজনকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। স্থানীয় ছাত্র-জনতাও পুলিশকে সহযোগিতা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান শেষে শনিবার রাতে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বললেন, আটক ব্যক্তির সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে তা ২৮০ থেকে ৩০০ জনের কাছাকাছি হবে।
হারুন অর রশিদ উল্লেখ করলেন, ‘আমাদের কাছে একটি তথ্য ছিল, জাসদ এবং তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে নাশকতা করার উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে এখানে জড়ো হয়েছিলেন। সেই সংবাদ পেয়ে পুলিশ প্রাথমিক ব্যবস্থা নিয়েছে।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা বললেন, কী উদ্দেশ্যে তারা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন, তাদের কাছে কী তথ্য ছিল এবং সেখানে কী ধরনের কর্মকাণ্ড হয়েছে, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার তথ্যও পুলিশের কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।
আটক ব্যক্তিদের ‘নিরাপত্তার স্বার্থে এবং পুরো ঘটনা যাচাই-বাছাইয়ের স্বার্থে’ পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের প্রয়োজনে তাদের আশপাশের অন্য থানায়ও নেওয়া হতে পারে।
উপকমিশনার হারুন অর রশিদের দাবি, যাচাই-বাছাই করে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য হিসেবে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না, তাদের অন্য প্রক্রিয়ায় ছেড়ে দেওয়া হবে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাংবাদিক বা অন্য কোনো পেশার মানুষ আছেন কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পুলিশের এই কর্মকর্তার ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ২৮০ থেকে ৩০০ জনের মতো।
তবে পুলিশের অভিযানের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বললেন, বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ জাসদ কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বের করে দেয়। এরপর জাসদ নেতাকর্মীদের আটক করা শুরু হয়।
ওসি আরিফুর ইসলাম বলেন, জাসদ কার্যালয় সিলগালা করা হয়নি।সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যার দিকে কার্যালয়টিতে তালা দেওয়া হয়
দুপুরের পর জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের চার শতাধিক নেতাকর্মী গোপন বৈঠক করছেন—এমন খবর পেয়ে যুবদলের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে তাদের আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেন। এ সময় বাইরে যুবদলের শত শত নেতাকর্মী অবস্থান করেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে আওয়ামী লীগের স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। তাহলে এটাকে কীভাবে জাসদের কার্যালয় বলতে পারি! এটা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয়। যেখানেই আওয়ামী লীগের স্লোগান দেখব, সেখানেই যুবদল যাবে। ৪০০ থেকে ৫০০ লোক এ কার্যালয়ে আটকা অবস্থায় রয়েছে। কার্যালয়ের সামনে যুবদলের হাজার হাজার লোক আছে, তাদের শান্ত রেখেছি। কার্যালয়ে আটকে থাকা লোকজনকে প্রশাসনকে নিয়ে যেতে বলেছি।’
জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ হিল কাইয়ুম বলেন, ডিএমপির কমিশনার, মতিঝিল জোনের ডিসি, পলটন থানার ওসিকে অবগত করেই প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘জাসদ নিষিদ্ধ দল নয়। জাসদের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা নেই। জাসদের এই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিসভায় অংশগ্রণকারী সবাই চিহ্নিত পরিচিত জাসদের নেতা-সদস্য। এই সভায় আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলের কারো প্রবেশ করারই সুযোগ ছিল না। সভাটি জাসদের একান্ত নিজস্ব সাংগঠনিক কার্যক্রম। সভায় প্রায় ৫০০ জন জাসদের বিভিন্ন সাংগঠনিক স্তরের নেতা উপস্থিত ছিলেন। ৩০ জন নারী ছিলেন। পুরো অফিস ঘেরাও করে সবাইকে বিভিন্ন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
জাসদ কার্যালয় থেকে সাংবাদিক নেতা আবু জাফর সূর্য আটক
রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় থেকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে আবু জাফর সূর্যকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ ভ্যানে করে তাকে পল্টন থানায় নেওয়া হয়।
আবু জাফর সূর্যের ফেসবুক আইডিতে হাতকড়াসহ একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘আজ জাসদের প্রতিনিধি সভায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় আমাকেসহ অনেককে হাতে হ্যান্ডকাফ পড়িয়ে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আমি জানি না। পল্টন থানায় আছি।’
