জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশি নিহত

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎ 

সৌদি আরবের জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৫ বাংলাদেশি। 

নিহতরা হলেন, আল-আবির কোল্ডস্টোরের স্টোরকিপার জিয়াউর রহমান এবং তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। স্টোরকিপার আলমশাহ ও তার এক মাস বয়সী মেয়ে এবং ড্রাইভার ইলিয়াসের স্ত্রীও এ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোররাতে মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে মহাসড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। 

জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তারা জানান, নিহত বাংলাদেশিরা মদিনা থেকে একটি গাড়িতে করে জেদ্দার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আজ ভোরে মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে বাংলাদেশিদের বহনকারী একটি বাসকে পেছন থেকে একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়।

নিহতদের সবাই আল আবীর কোল্ড স্টোর ট্রেডিং কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাদের বাড়ি বাংলাদেশের কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়।

কনস্যুলেটের কার্যালয় জানায়, জেদ্দা থেকে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর জিজানে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, নিহত সাতজন বাংলাদেশের একাধিক পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। সাত বাংলাদেশির মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আর আহতদের একই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে

‎প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং ম্যানেজার নুরুজ্জামান জানান, তারা একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে মদিনা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথে মরুভূমির দীর্ঘ মহাসড়কে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে গাড়িতে থাকা সাতজনেরই মৃত্যু হয়।

‎প্রত্যক্ষদর্শী সৌদি প্রবাসী চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা আব্দুরাজ্জাক বলেন, ‘আমরা কাজ শেষ করে মদিনা থেকে রাত আনুমানিক ২টার দিকে বাসায় ফিরছিলাম। আমরা যেখানে গাড়ি থেকে নামি সেখানে দেখি একটি গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে পড়ে আছে। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন মারা গেছে। পরে খবর নিয়ে জানলাম তারা আমাদের এলাকার মানুষ।’

‎দুর্ঘটনার পর সৌদি আরবের স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ মদিনার স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদেরও ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে নিহতদের নামগুলো পাওয়া গেছে। তাদের বাসার ঠিকানা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।’

ইউএনও বলেন, ‘মনে হচ্ছে নিহতরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তাই দ্রুত চকরিয়ায় তাদের ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে না।’

‎

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *