নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে একটি দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে মো. রাজু নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায়।

স্থানীয় সময় শনিবার (২২ আগস্ট) প্রিসিংক্ট ৭৩ এলাকার রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউর আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা নামে দোকানে গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ১২টা ১ মিনিটে নিউইয়র্ক নগর পুলিশ বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে তাদের ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে নেওয়া হলে বুকে গুলিবিদ্ধ হওয়া রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।

নিহত রাজুর সহকর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ রাসেল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি দোকানে ঢুকে কোনো কিছু না বলে সরাসরি আমাকে গুলি করে। আমার ঊরুতে গুলি লাগলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। পরে ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত রাজুকেও ওই ব্যক্তি গুলি করে। তাঁর বুকে গুলি লাগে। ওই পিৎজার দোকানটি রাজুর এক বন্ধুর মালিকানাধীন। রাজুই দোকানটি নিজের মতো দেখভাল করতেন।’

দোকানের মালিক আবদুল জলিল বলেন, ‘রাজু আমার বন্ধু। আমার দোকানটা তিনি নিজের মতো করে আগলে রাখতেন। তাঁর বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামে। রাজুর স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান দেশে থাকে।’

জলিল বলেন, ‘তিন বছর আগে রাজু যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। এখানে তাঁর কোনো আত্মীয়স্বজন নেই। মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সোসাইটিসহ অন্য সমিতিগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা আশা করছি।’

আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাজুর মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তার মৃত্যুতে গ্রামের বাড়িতে শোকাবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার তার মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত বন্দুকধারী ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি অভিবাসীরা।

ব্রুকলিনে একটি সহিংস সপ্তাহ পার হওয়ার পরপরই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটল। এর আগে, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে ইস্ট নিউইয়র্কের নাইচার পিংক হাউসের বাইরে ২৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটিকে রোড রেইজ বা সড়ক-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব থেকে সংঘর্ষ হিসেবে সন্দেহ করে পুলিশ তদন্ত করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গুরদীপ সিং নামের ওই ব্যক্তি পিৎজা ডেলিভারি দিতে যাওয়ার সময় ক্রিসেন্ট স্ট্রিট ও স্ট্যানলি অ্যাভিনিউয়ের কাছে বাগ্‌বিতণ্ডার সময় তাঁর বুক ও পেটে সাতটি গুলি করা হয়। তাঁর হত্যাকারী গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যায় এবং তাকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে, গুরদীপ সিং যে স্থানে খুন হন সেখান থেকে প্রায় দেড় মাইল দূরে ইস্ট নিউইয়র্কের হাকিমসে ১৭ বছর বয়সী অহমীর জর্ডানের মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। শনিবার নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ তাঁদের সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে, তবে কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *