কুরবানির পশুর চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎ 

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে কুরবানির গরুর কাঁচা চামড়ার দর ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করেছে।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই নতুন দর ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে চামড়া সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে সরকারি অর্থায়নে বিনামূল্যে লবণ বিতরণের বিশেষ উদ্যোগও নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এদিন সচিবালয়ে কুরবানি সম্পর্কিত বিষয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ সভা শেষে ব্রিফিংকালে এ বিষয়ে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দর ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে গরুর কাঁচা চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম ৫৭ থেকে ৬২ টাকা।

এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়ার প্রতি বর্গফুট ২৫-৩০ টাকা এবং সারা দেশে বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কুরবানির পশুর চামড়া যেন নষ্ট না হয় সেজন্য সারা দেশে সরকারি অর্থায়নে বিনামূল্যে লবণ পৌঁছানো হবে। এজন্য ইতিমধ্যে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ কেনা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) মাধ্যমে জেলা-উপজেলায় এই লবণ পৌঁছে দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সঠিক সময়ে লবণের সরবরাহ এবং চামড়ার নায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে চামড়া পাচার রোধ ও জাতীয় অর্থনীতিতে এর সুফল পাওয়া যাবে। মূলত কুরবানিকে ঘিরে চামড়া শিল্পের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুশৃঙ্খল রাখতেই প্রতি বছরের মতো এবারও আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।

কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে লবণ দেবে সরকার

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবহারে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। চামড়া যেন নষ্ট না হয় এবং দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পে যথাযথভাবে এটি ব্যবহার করা যায়, সে লক্ষ্যে সারাদেশে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়াদির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি টেলিভিশন, পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও লিফলেটের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দেশের মসজিদগুলোতেও এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। জুমার নামাজ ও ঈদের আগে ইমামদের মাধ্যমে মুসল্লিদের চামড়া সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করা হবে।

দেশের হাজার হাজার কওমি মাদ্রাসা সমাজের দান-অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। কোরবানির পশুর চামড়া থেকে যে অর্থ আসে, তা এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। তাই চামড়ার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

স্থানীয় প্রশাসন ঈদের সময় ও পরবর্তী দিনগুলোতে চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রম তদারকি করবে। পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক টিম সারাদেশে সক্রিয় থাকবে। এ কাজে সংসদ সদস্যদেরও সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের স্থানীয় শিল্পে চামড়ার ব্যবহার নিশ্চিত করা, যাতে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে চামড়াজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা যায়। তবে প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমিত সময়ের জন্য ‘ওয়েট ব্লু’ চামড়া রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্যানারি মালিক, কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারীদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের কোরবানির ঈদে চামড়া সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *