✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ভুল করা পরীক্ষকদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ জন্য পুনর্মূল্যায়নে নম্বর পরিবর্তন হওয়া খাতাগুলো আলাদা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের ভুলের ধরন পর্যালোচনা করে তাদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়ন শেষে দেখা গেছে, পরীক্ষকদের মূল্যায়নে দুর্বলতা রয়েছে। এ কারণে নম্বর পরিবর্তন হওয়া খাতাগুলো আলাদা করা হয়েছে। একটি কমিটির মাধ্যমে এসব খাতা মূল্যায়নকারী পরীক্ষকদের ভুলের ধরন পর্যালোচনা করা হবে। এরপর তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। যারা সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তাও বিবেচনা করা হবে।
এবার এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষার খাতার জন্য প্রায় ১০ লাখ ৫৬ হাজার এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য প্রায় ২ লাখ ৩১ হাজার আবেদন পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে আবেদন করা খাতার সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ ৮৭ হাজার।
পুনর্মূল্যায়নের পর ৫৬ হাজার ২৪৯টি খাতার নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া ফেল থেকে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন পরীক্ষার্থী। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে প্রচলিত পদ্ধতিতে মূলত নম্বর যোগ করার ভুল যাচাই করা হতো। খাতার ভেতরে দেওয়া নম্বর বা মূল্যায়নের যথার্থতা যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত ছিল। এবার আইনি ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে মূল্যায়নের দুর্বলতা চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। আগে খাতা পুনঃমূল্যায়নের সিস্টেমটা ছিল না, শুধু ট্যাবুলেশন শিট অর্থাৎ উপরে যে মার্ক যোগ হয়, সেটাকেই শুধু যোগ করা হতো। আমার ২০০১ সালের অভিজ্ঞতা যে, এই মার্ক যোগ করার পরে দেখা যেত যে ভেতরে যদি খাতা পাল্টিয়ে দেওয়া হয় বা অন্য কোনো কিছু করা হয়—তখন এই বিষয়ে কেউ জানত না। এই অভিজ্ঞতা থেকে এবার খাতা পুনঃমূল্যায়নের ব্যবস্থাটি আইনের ভেতরে সংযোজন করা হয়েছে যে, খাতা পুরোটাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
তিনি বলেন, পুনর্মূল্যায়নে এত শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হওয়া পরীক্ষকদের মূল্যায়নপ্রক্রিয়া পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আরও কিছু তথ্য পর্যালোচনার পর জানানো হবে।
এবার দেখুন বিগত দিনগুলোতে এই ব্যবস্থাটিতে না থাকার কারণে কত ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের সঠিক ফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। শুধু এইখানেই নয়, পরবর্তীতে আরো কিছু নতুন চমক আসবে। সেটা আমরা একটু বের করে নিই যে, কোথায় আরো দুর্বলতা রয়েছে।”
খাতা দেখা শিক্ষকদের দুর্বলতা রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই খাতাগুলোকে আমি আলাদা করে ফেলেছি। কমিটি করে এই মূল্যায়িত খাতাগুলির কার কার এক্সামিনারের কী কী দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলিকে আমরা যাচাই করব এবং সেইভাবে ট্রেনিং ব্যবস্থা করব এবং যারা এই মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেটা আপনারা আগামীতে জানতে পারবেন। এটি একটি বিশাল ইস্যু, যেটাতে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিনিয়তই ভুক্তভোগী হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এত বিশাল নম্বর যদি জিপিএ ৫ পেয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে যে— আমাদের খাতা দেখায় বিগত দিনগুলোতে কী পরিমাণ দুর্বল রীতি ছিল। কী পরিমাণ স্বজনপ্রীতি ছিল এবং কী পরিমাণ ম্যানিপুলেশন ছিল। ম্যানিপুলেশনের কিন্তু আরো অনেক পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলি আপনাদের সময় মত আমরা জানাব। সেই ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। বললাম না একটি শব্দ, আরো চমক রয়েছে এই বিষয়ে।
এক সাংবাদিক বলেন, ভুল ফলের কারণে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় আত্মহননের পথ বেছে নেয়।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের খাতা নতুন করে যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের মান উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য নম্বর নিশ্চিত করতে এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
