✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভবনের ভেতরে একটি রুটির কারখানার সন্ধান পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শনিবার বিকেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছে এবং ভবনের ওপরের একটি তলায় বৈদ্যুতিক ওভেনে পরিচালিত রুটির কারখানার অস্তিত্ব পেয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সেখানে ইলেকট্রিক ওভেনের মাধ্যমে রুটি তৈরি করা হতো। তবে কারখানাটিতে কোনো ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার পাওয়া যায়নি। এ কারখানা থেকে এমন কোনো গ্যাস বা রাসায়নিক উপাদান তৈরি হয়েছিল কি না, যা শিশুদের সহ্যক্ষমতার বাইরে ছিল, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞ দল আবারও হাসপাতাল পরিদর্শন করবে। কারখানার পরিবেশ, যন্ত্রপাতি ও সম্ভাব্য নির্গমনের বিষয়গুলো পরীক্ষা করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, রোগী ও স্বজনের উপস্থিতি থাকে। এমন জায়গায় রুটির কারখানা থাকা উচিত নয়। এটি আমাদের নজরদারি ও তদারকির ঘাটতির বিষয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম যাতে হাসপাতালের ভেতরে পরিচালিত না হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। রুটির কারখানা কিংবা জমে থাকা পানি থেকে কোনো ক্ষতিকর গ্যাস বা পদার্থ সৃষ্টি হয়ে শিশুদের মৃত্যুর কারণ হয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বর্তমানে ছয় সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল তদন্তকাজ পরিচালনা করছে। হাসপাতালের পরিবেশ, কারিগরি অবস্থা, অবকাঠামো ও অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ মূল্যায়নে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন’-এর মালিকানাধীন। এই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সেখ মহিউদ্দিন। তিনি আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম সেখ আকিজ উদ্দিনের বড় ছেলে।
মৃত শিশুদের মায়েদের বক্তব্য ছাড়া আদ-দ্বীনের তদন্ত প্রতিবেদন নয়
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, মৃত শিশুদের মায়েদের বক্তব্য ছাড়া পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব নয়।
শনিবার বিকেলে আদ-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তদন্ত কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ দেখা হয়েছে। তবে যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে, মায়েদের সঙ্গে এখনো পুরোপুরি কথা বলতে পারেনি তদন্ত কমিটি। অনেকেই ঢাকার বাইরে থাকায় সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি তদন্ত প্রতিবেদন চাই, যেখানে কোনো ঘাটতি থাকবে না। মৃত শিশুদের মায়েদের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে তদন্ত কমিটি আরও সময় চেয়েছে। আগামী ৩ জুন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।’
মৃত শিশুদের ময়নাতদন্ত না হওয়ায় মৃত্যুর কারণ নির্ণয় কতটা সম্ভব হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এত ছোট শিশুদের ময়নাতদন্তে তাদের বাবা-মা কেউই রাজি হননি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাব।’
উল্লেখ্য, কোরবানির ঈদের আগের দিন বুধবার ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে থাকা ছয় শিশু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে একে একে তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
ঘটনার পরদিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে শিশুদের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।
