রোজার ১০ পণ্য আমদানিতে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎  

আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ১০টি পণ্য আমদানিতে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এসব পণ্য আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে নগদ মার্জিন ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসব পণ্য আমদানিতে এলসি খোলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে সার্কুলারে জানানো হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব পণ্যের আমদানিতে এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো—চাল, গম বা আটা, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল (সয়াবিন ও পাম), চিনি, ছোলা, মটর, মসলা ও খেজুর। রমজান মাসে ইফতারি ও সেহরি তৈরিতে এসব পণ্যের ব্যবহার বেশি হওয়ায় বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এ ছাড়া রমজানের আগে একসঙ্গে বেশি পণ্য কেনার প্রবণতাও চাহিদা বাড়িয়ে দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের আমদানি সহজ করা এবং বাজারে এসব পণ্যের পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা জানান, এলসি খোলার সময় আমদানিকারককে যে পরিমাণ নগদ অর্থ ব্যাংকে জমা দিতে হয়, সেটিই নগদ মার্জিন। এ মার্জিন কম থাকলে আমদানিকারকদের নিজস্ব মূলধনের ওপর চাপ কমে। ফলে কম নগদ অর্থ জমা দিয়েই তাঁরা আমদানি ঋণপত্র খুলতে পারেন। এতে আমদানির সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সুযোগ তৈরি হয়।

ব্যাংকসংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানি সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে আমদানি সুবিধার সুফল ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে আমদানি, মজুত ও বিপণন পর্যায়ে কার্যকর তদারকিও প্রয়োজন।

এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারে এসব পণ্যের পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানির ক্ষেত্রে ঋণপত্র স্থাপনে ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এলসি বা আমদানি ঋণপত্র খোলার সময় ব্যবসায়ী বা আমদানিকারককে ব্যাংককে যে নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ বা সিকিউরিটি জমা দিতে হয়, তাকেই এলসি মার্জিন বলা হয়। এটি সাধারণত মোট এলসি মূল্যের একটি নির্দিষ্ট শতকরা হার হয়ে থাকে। যেমন মার্জিন ১০০ শতাংশ হলে আমদানির সমপরিমাণ অর্থই নগদ জমা দিয়ে এলসি খুলতে হয়। মার্জিন ন্যূনতম বা শিথিল হলে খুব অল্প পুঁজি বা ব্যাংকের সঙ্গে সুসম্পর্কের ভিত্তিতে কম নগদ জমার মাধ্যমেই এলসি খোলা সম্ভব হয়।

এলসি খোলার ক্ষেত্রে নগদ মার্জিন কম থাকলে ব্যবসায়ীদের নিজস্ব মূলধনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে না। এর ফলে ছোট ও মাঝারি আমদানিকারকসহ অনেকেই সহজে বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানির সুযোগ পান, যা বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

অপর দিকে নগদ মার্জিন ১০০ শতাংশ বা উচ্চহারে নির্ধারিত থাকলে ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের নগদ অর্থ ব্যাংকে আটকে যায়। এতে আমদানিকারকদের ঋণপত্র খোলার সক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে কৃত্রিম সংকট এবং পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাসে ছোলা, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, মসলা ও খেজুরের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। রমজানে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসে। ইফতার ও সাহ্‌রিতে ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, ফলের শরবত, মিষ্টিসহ ভারী খাবারের আয়োজন বাড়ে। ফলে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও মসলার ব্যবহার বেড়ে যায়।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *