✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় ও তারিখ অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল কার্যক্রম বন্ধ করার কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ৫১টি ফ্লাইটে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল ও কিছু স্থগিত হয়েছে। এসব ফ্লাইটের ৫ হাজার ৪১৮ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাঁদের ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার কথা ছিল।
স্থগিত ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন যাত্রাসূচি সম্পর্কে যথাসময়ে হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিমান।
এর আগে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে রিয়াদগামী যাত্রীদের যাত্রাসূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। একই সঙ্গে এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা পথে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের নম্বর বিএস ৩৮১ ও বিএস ৩৮২। ফ্লাইটের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
সৌদি আরবের যাত্রীদের আপাতত বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ইউএস-বাংলা। ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা, আবার টিকিট বুকিং ও অন্যান্য তথ্য জানতে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিক্রয়কেন্দ্র বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, ৫১টি ফ্লাইটের মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি চলাচলকারী ফ্লাইট ১২টি। বাকি ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারের তিনটি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, সালাম এয়ারের ৩টি, ইজিপ্টএয়ারের ১টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি ফ্লাইট রয়েছে।
এর আগে দাম্মাম বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গতকাল রোববারও একই ফ্লাইটের যাত্রায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ঢাকা থেকে দাম্মামের উদ্দেশে যাত্রার সময় কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (ডিএমএম) কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও পরে বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিজি-৩৪৯ বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ২৭ মিনিটে কাতারের দোহা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর দাম্মাম বিমানবন্দর পুনরায় চালু হলে ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ২ মিনিটে নিরাপদে দাম্মামে পৌঁছায়।
পরে বিজি-৩৫০ ফ্লাইটটি দাম্মাম থেকে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। ফ্লাইটটির আজ বেলা ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল।
বিমান জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তাঁদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।
বিদেশে যত বাংলাদেশি রয়েছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি থাকেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে। বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য এই দেশটি।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরোয়েলের যুদ্ধের মধ্যে তেহরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সম্প্রতি কয়েক দফায় হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবে।
এমনই একটি হামলায় শনিবার রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর দুই বাংলাদেশিসহ ১৪ জন নিহত হন। হামলার পর থেকে কিং খালেদ বিমানবন্দর বিমান ওঠানামা ব্যাহত হচ্ছে।
