পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে বিজেপি

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় ২৯৩ আসনের মধ্যে বিজেপি ১৯৩ আসনে এগিয়ে রয়েছে। ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৯৫ আসনে।

সোমবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত গণণা করা ভোটের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা। তবে কোন আসনে কত শতাংশ ভোট গণণা করা হয়েছে তা জানা যায়নি। 

এনডিটিভি থেকে পাওয়া সর্বশেষ খবরে বিজেপি এখন পর্যন্ত ১৯০ আসনে এগিয়ে রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৯৯টি আসনে। বামজোট দুটি আসনে এগিয়ে আছে। 

অন্যদিকে আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন বলছে, ১৮৩ আসনে এগিয়ে বিজেপি। আর তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ১০২টি আসনে। 

২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ১৪৮টি আসনে জয়। তবে অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ভোট বাতিল করায় ২৯৩টি আসনের ফল গণনা চলছে।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যজুড়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা কলকাতাসহ ২৩টি জেলায় ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গণনা শুরু হয়।

নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভোট গণণায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্য বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। 

ভবানীপুরে ১৬ হাজার ভোটে এগিয়ে মমতা 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। ভবানীপুর আসনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, পঞ্চম রাউন্ডের ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৯ হাজার ২৩৬ ভোট। এ ফলাফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৬ হাজার ৭৯৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

২৯৩ আসনের বিপরীতে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গেছে।

সকাল ৮টা থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোট গণনা শুরু হয়েছে। রাজ্যজুড়ে মোট ৭৭টি ভোট গণনাকেন্দ্র খোলা হয়েছে। শুরুতেই পোস্টাল ব্যালট এবং পরে শুরু হবে ইভিএম ভোট গণনা।

পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গে এবার কোন দল জিতছে এবং কারা ক্ষমতায় যাচ্ছে—তা সবই স্পষ্ট হবে ভোট গণনার পর। তবে রাজ্যবাসী কার হাতে পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার তুলে দিলেন তার একটা প্রাথমিক ধারণা স্থানীয় সময় দুপুর ১টার মধ্যেই মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও কিছু কিছু কেন্দ্রের গণনা শেষ হতে রাতও গড়িয়ে যেতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গে এবারে মোট দুইটি দফায় ভোট গ্রহণ পর্ব হয়েছে। প্রথম দফায় নির্বাচন হয়েছে ২৩ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হয় ২৯ এপ্রিল।

প্রথম দফায় যে ভোটগ্রহণ হয়েছে, এতে বেশির ভাগ জেলা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। আবার দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছিল তৃণমূলের দুর্গ বলে পরিচিত দক্ষিণবঙ্গে।

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আজ আজ আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরি বিধানসভার নির্বাচন -এর গণনাও হবে। আসামে ১২৬টি আসনে, কেরালায় ১৪০ আসনে, তামিলনাড়ুতে ২৩৪ আসনে এবং পুদুচেরিতে ৩০ আসনের ফলাফল জানা যাবে আগামীকাল মঙ্গলবার।

পশ্চিমবঙ্গে কখনও সরকার গঠন করতে পারেনি বিজেপি

স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ মূলত তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দল শসন ক্ষমতায় এসেছে। দলগুলো হলো-

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস: ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত (মাঝখানে স্বল্প সময়ের জন্য যুক্তফ্রন্ট সরকার ছিল)।

সিপিআইএমের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট: ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ৩৪ বছর এই জোট ক্ষমতায় ছিল।

তৃণমূল কংগ্রেস: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০১১ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত টানা তিনবার পশ্চিবঙ্গের ক্ষমতায় তৃণমূল কংগ্রেস।

এই হিসাব অনুযায়ী বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে কখনও সরকার গঠন করতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে এ রাজ্যে বিজেপি একটি প্রান্তিক শক্তি। বিধানসভায় তাদের আসন সংখ্যা ছিল নগণ্য। তবে ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিজেপি প্রথমবার উল্লেখযোগ্যভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয় এবং মাত্র ৩টি আসনে জয়লাভ করে।

এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি চমকপ্রদ ফল করে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়লাভ করে। এরপর থেকেই তারা রাজ্যে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে।

সর্বশেষ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ‘এবার ২০০ পার’ স্লোগান দিয়ে জোরকদমে লড়াইয়ে নামলেও ৭৭টি আসনে থমকে যায়। তবে ৩টি থেকে ৭৭টি আসনে পৌঁছানো ছিল তাদের জন্য এক বিশাল লাফ। তারা প্রথমবারের মতো রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *