✍︎ ঢাবি প্রতিনিধি ✍︎
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের পৃথক চারটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এ সময় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে সোপর্দ করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেট্রো স্টেশনের নিচে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’
রাতে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাঈনুল ইসলাম জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন নাটোরের রেজাউল করিম (৪২), রাজশাহীর সোহেল রানা (৩৩) ও গোপালগঞ্জের নাজমুস সাদ (৩৩)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের পাশে, ভিসি চত্বর, নীলক্ষেতসংলগ্ন মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে এবং টিএসসি এলাকায় এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে টিএসসি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের চেষ্টাকালে দুজনকে আটক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় টিএসসি এলাকায় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর প্রশাসনিক ভবনের পাশে, ভিসি চত্বর এবং নীলক্ষেতসংলগ্ন মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে আরও তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এছাড়া জগন্নাথ হলের কাছাকাছি, শাহবাগ ও বাংলা একাডেমি এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানা গেছে। এসব ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য হারুন গণমাধ্যমকে জানান, ক্যাম্পাসে সাত-আটটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং বলেন, ‘টিএসসিতে ককটেল বিস্ফোরণের পর শিক্ষার্থীরা দুজনকে আটক করে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে সোপর্দ করেছেন। এরই মধ্যে শাহবাগ থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেছেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে কর্মসূচি ঘোষণা করবে ছাত্রদল। সাধারণ মানুষ যেন নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করতে পারে, সেজন্য ছাত্রদল সর্বদা সোচ্চার থাকবে।’
