ঢাবি ছাত্রীর আত্মহত্যা: শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী কারাগারে

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুপুরে তাঁকে আদালতে হাজির করে বাড্ডা থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কাজী ইকবাল হোসেন তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীর পক্ষে তাঁর আইনজীবী ফুল মোহাম্মদ জামিনের আবেদন করেন। তিনি আদালতে বলেন, আসামি একজন ভালো শিক্ষক। ঘটনার কিছুই জানেন না। তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতের বাড্ডা থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গতকাল রোববার রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসায় ঢাবি শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া…।’

পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তাঁর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে সুদীপ চক্রবর্তীকে আসামি করে মামলা করেন।

পুলিশের আবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে এজাহারনামীয় আসামি সুদীপ চক্রবর্তীকে শনাক্ত ও গ্রেফতার চেষ্টাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার ৩টা ২০ মিনিটে উত্তর বাড্ডা থেকে আটক করে হেফাজতে নেওয়া হয়। তাঁকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মামলার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর নাম/ঠিকানা যাচাই প্রক্রিয়াধীন। এমতাবস্থায় মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে তদন্তকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। মামলা তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে তার রিমান্ডের প্রয়োজন হতে পারে বলে তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *