✍︎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ✍︎
নাট্যকর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর (২৬) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার সকাল আটটার দিকে বাড্ডার বাসা থেকে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে বাড্ডা থানা–পুলিশ। এরপর সুদীপ চক্রবর্তীকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান জানান, আজ সাড়ে তিনটার দিকে বাড্ডা থানায় সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করেন মিমোর বাবা। সেই মামলায় সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
একই ঘটনায় উম্মে হানি নামে মিমোর এক সহপাঠীকে হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। মুচলেকা নিয়ে হানিকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান আসাদুজ্জামান।
বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান জানান, ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছেন তাঁরা।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘তিনি (মিমো) সচরাচর দরজা খোলা রেখে ঘুমান। ফজরের আজানের পর দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ধাক্কাধাক্কি করেন। তবে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।’
পুলিশ বলছে, গতকাল রাত একটার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছয় মিনিট কথা বলেছেন মিমো। কল হিস্ট্রি ডিলিট করেছেন সুদীপ।
মিমোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন কাজী তামান্না হক। এক শোকবার্তায় তামান্না হক লিখেছেন, ‘এমন মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। বিভাগের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা শোকে আচ্ছন্ন। আমরা চাই সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।’
নাট্যকর্মী হিসেবে পরিচিত মিমোকে নির্দেশনা দিতেও দেখা গেছে। মৃত্যুর ঘটনায় নাট্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নাট্যকর্মী মহসিনা আক্তার লিখেছেন, ‘আহারে মিমো।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া।’ এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গুলশান জোনের (বাড্ডা) এডিসি জুয়েল জানান, ‘শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত আলামতের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন শিক্ষককে আপাতত হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
