টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: যশোরের এক পরিবারের খোঁজ মেলেনি

✍︎ কক্সবাজার প্রতিনিধি ✍︎

কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে যশোরের একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁরা চারজন ওই রিসোর্টে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন-যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই শিশুসন্তান রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।

নাহিদুর রহমান ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বেগে রয়েছেন স্বজনেরা। পরিবারের সদস্য ও কর্মক্ষেত্রের সহকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করে তাঁদের খোঁজ করছেন। তবে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্বজনদের আশঙ্কা, উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলোর মধ্যে তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও থাকতে পারেন।

স্বজনেরা জানান, নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স মনিরামপুর পৌরশহরে বসবাস করেন।

নাহিদুরের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁর বড় ভাই কক্সবাজারের রিসোর্টে কক্ষ বুকিংয়ের বিলের ছবি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। বিলের কপি অনুযায়ী, নাহিদুর ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের একটি কক্ষ বুকিং দিয়েছিলেন। বুকিং দেওয়া হয়েছিল ১১ অক্টোবর। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাঁদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল।

জাহিদুর রহমান বলেন, নাহিদুর শুক্রবার কক্সবাজার যাবেন বলে তাঁকে জানিয়েছিলেন। শনিবার রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর তিনি ভাইকে ফোন করেন। কিন্তু নাহিদুর বা তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে শনিবার সন্ধ্যায় তিনি নিজেই কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।

জাহিদুর বলেন, ‘আমরা দুই ভাই। মা নেই। অসুস্থ বাবা আমাদের সঙ্গে গ্রামে থাকেন। বাবা এখনো নাহিদুরের ঘটনার কথা জানেন না। নাহিদুর তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। ছুটি পেলে বা উৎসবের সময় তাঁরা গ্রামে আসতেন। তাঁরা বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন, সেটিও নিশ্চিত হতে পারিনি। তাঁদের নিয়ে আমরা খুব উদ্বেগে রয়েছি।’

স্বজনদের আশঙ্কা, নিখোঁজ নাহিদুরের পরিবারের চার সদস্যের পরিচয় এখনো শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে নাহিদুর ও তাঁর পরিবারের নিখোঁজ হওয়ার খবর শনিবার রাতে ছড়িয়ে পড়লে মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁদের ছবি পোস্ট করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *