রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রিমান্ডে

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সন্ধ্যায় তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আবেদন করলে তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে রাকিবুলের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের যোগসাজশ এবং তাদের পরিচয় শনাক্ত করা প্রয়োজন বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে। অডিওটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং অপরাপর আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলেও আবেদনে জানানো হয়।

মামলায় দণ্ডবিধির ১২৪-ক ও ১৫৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি দায়েরের আগে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অনুমতি চাওয়া হয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি পুলিশ পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার পেছনের মূল ষড়যন্ত্র উন্মোচনে আসামিকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিও ভাইরালের ঘটনায় ওসির পদ থেকে সরিয়ে তাকে সংযুক্ত করা হয়েছিল।

এর আগে অডিও ভাইরালের ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনারের সই করা এক অফিস আদেশে রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করে সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানের একটি অডিও ভাইরাল হয়। ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও রেকর্ডে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাকিবুল ইসলামের কথোপকথন শোনা যায়।

ওসির অডিও ছড়িয়ে পড়লে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিএমপি। এরপর কমিটির সদস্যরা তাকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।  

বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওসি পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সমালোচনা করতে শোনা যায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ওসি পদায়নে টাকা লেনদেনের অভিযোগও করেন তিনি।

অডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল। আসা উচিত। ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে। এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলি এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না।’

অডিওতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘সিনিয়র অফিসার সব বিএনপি করতেছে। আমরা তো বিএনপি করতেছি না। সব সিনিয়ররা বিএনপি করতেছে, আমরা বিএনপি করতেছি না। এই করার জন্য তো আমরা ডিপার্টমেন্টে আসি নাই। তোমরা খাবা-দাবা, … নিয়ে থাকবা আর আমরা এখানে বসে বসে কাজ করব, তা তো হবে না।’

মনির নামে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার গাড়িচালক থানার ওসি পদায়ন করছেন বলেও বলা হয় ওই অডিওতে। অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এগুলো সহ্য করা যায়? আর কী বলব? যারা পোস্টিং পাইতেছে, তার (মনির) কাছে টাকা দিচ্ছে, সকালবেলা পোস্টিং হইতেছে।’

ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে অডিওর বক্তা বলেন, তাঁর লজ্জা থাকা উচিত। তাঁর চাকরি ছিল না। এখন যে পদে আছেন, সেখানে এক বছর থাকতে পারলে ১০০ কোটি টাকা এমনিতেই হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *