গাজীপুরে কর্মস্থলে ফিরছেন পোশাকশ্রমিকেরা

✍︎ গাজীপুর প্রতিনিধি ✍︎  

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েক দিন সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের পর কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা।

বৃহস্পতিবার সকালে সড়কে বিক্ষোভের পরিবর্তে দলবেঁধে কারখানায় প্রবেশ করছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের উপস্থিতিতে ফিরতে শুরু করেছে শিল্পাঞ্চলের কর্মচাঞ্চল্য।

সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার কোনো মহাসড়ক বা আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিকদের অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক ছিল।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত গাজীপুরের কোনাবাড়ী, চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া ও মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া, মৌচাক, সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রাসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে আসছিল। পরে সরকার শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠন করে।

পরে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত গাজীপুরে কোথাও শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অবরোধের ঘটনা ঘটেনি।সকালে শান্তিপূর্ণভাবে কারখানায় কাজে ফিরেছে শ্রমিকরা। এদিকে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও মোবাইল কোর্ট বিভিন্ন শিল্প এলাকা টহল দিচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আছে।এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল ২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত কোথাও কোনো ধরনের বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। শ্রমিকরাও কাজে যোগ দিয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। শ্রমিক বিক্ষোভের ইস্যুতে কোনো কারখানার ছুটি নেই। প্রায় সব কারখানায় শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করছে।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে বিজিবির ১২ প্লাটুন, আনসারের পাঁচ প্লাটুন ও এসআরবির আট প্লাটুন সদস্য রয়েছেন।

গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাইন জানান, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, আন্দোলনের নামে যাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। অন্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন।

এর আগে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তাঁরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনা ঘটে।

আন্দোলনের মধ্যে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি ও কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে।

টানা আন্দোলন ও সংঘাতের কারণে শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে আন্দোলন চলাকালে মারধরের শিকার হয়ে তৌফিক হোসেন শেখ নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর ঘটনাও শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।

কয়েক দিনের উত্তেজনা ও অস্থিরতার পর বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার মধ্য দিয়ে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরার আভাস মিলছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *