✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষোভ শুরু করে সড়কে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধরা। মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় জনতা মিরপুর ১০ নম্বরে সড়কে অবস্থান নিয়েছে। শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে আসামিদের বিচারের দাবিতে দুপুর ১২টার দিক থেকে তারা সড়কের একপাশে অবস্থান নিয়ে আছেন। আমরা একটা সাইড দিয়ে এক লেনে গাড়িগুলো পাস করে দিচ্ছি। এখন যানবাহন চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক আছে।
সন্ধ্যার পর থেকে কালশী রোডের ফুলকলি ও আধুনিকের মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা ‘জাস্টিস ফর রামিসা’, ‘ফাঁসি চাই’, ‘আমার বোন খুন হলো কেন?’ এবং ‘অপরাধীর আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। এসময় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
বিক্ষুব্ধ জনতা বলেন, শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা মেনে নেওয়া হবে না। তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই রায় কার্যকর করার দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণেই একের পর এক এমন নৃশংস ঘটনা ঘটছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ লুকানোর চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
