হরমুজকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্র বানাতে চাইছে তেহরান

𓂃✍︎  নাগরিক নিউজ ডেস্ক 𓂃✍︎

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ৮টায় ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র।  অর্থ্যাৎ, ইরানি বন্দরে যাওয়া ও আসা নৌযানগুলোর চলাচলে বাধা তৈরি করা হবে। তবে এক বিশ্লেষক বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ তেহরানের অবস্থানকে খুব একটা টলাতে পারবে না।

অপরদিকে হরমুজ নিয়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন বিবৃতি পর্যালোচনা করে আলজাজিরার স্থানীয় সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি বলছেন, জলপথটিকে তেহরান মূলত যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্র বানাতে চাইছে। 

সোমবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে লাইভ ব্লগে তৌহিদ আসাদি লিখেছেন, ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমানে যে ধরনের বক্তব্য আসছে সেগুলোর মূল সুর হলো- সহনশীলতা, প্রতিরোধ এবং স্পষ্ট অবাধ্যতা। এটি কেবল হরমুজ প্রণালি রক্ষা নয়, বরং যেকোনো ধরনের নতুন সংঘাত মোকাবিলায় তাদের দৃঢ় অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ।

ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে তারা এবার একটি নতুন ‘শাসনব্যবস্থা’ বা নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে। খোদ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যেও একই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আসাদি লিখেছেন, ইরান মূলত দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার উপায় খুঁজছে। তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর একটি নির্দিষ্ট টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে। যা দিয়ে তারা যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায় করতে চায়।

বর্তমানে সিরিয়া, লেবানন ও ইরাকের মতো দেশগুলোতে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব অনেকটাই কমে গেছে। এমন আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে তারা হরমুজ প্রণালিকে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। আসাদি লিখেছেন, ইরানিরা একটি বিশেষ প্রস্তাবের ‘প্যাকেজ’ নিয়ে ইসলামাবাদে গিয়েছিল। জলপথটি নিয়ে ছাড় দিতেও রাজি ছিল। তবে বিনিময়ে বড় ধরনের সুযোগ-সুবিধার দাবি জানানো হয়েছিল।

তৌহিদ আসাদির মতে, কূটনৈতিক তৎপরতায় সমাধানের প্রচেষ্টা থেকে বর্তমান পরিস্থিতি অনেক দূরে সরে গেছে।

হরমুজ ঘিরে বিশ্বব্যবস্থা
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্ল্ড স্টাডিজ অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক জোহরে খারাজমির মতে, হরমুজ প্রণালি অবরোধের হুমকির মাধ্যমে মূলত দুই পক্ষের ‘সহনশীলতার’ সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। ইরান চলতি সপ্তাহেই ১৫ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রি করেছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাদের দীর্ঘ সীমান্ত আছে। ফলে নৌ বন্দর অবরোধ হলেও তেহরান টিকে থাকতে সক্ষম।

ইরানের এই সক্ষমতার প্রেক্ষাপটে জোহরে খারাজমি বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ভাবছে তারা চাপ দিয়ে ইরানের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবতা এমন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে না। অন্তত নিকট ভবিষ্যতে ইরান তাদের অবস্থান থেকে সরবে না।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপকের মতে, ‘হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন এই অঞ্চলের নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ইরান যেকোনো ধরনের পাল্টা আঘাত হানার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’  

এছাড়া অর্থনীতিতে পেট্রো ডলারের প্রভাব কমে আসা এবং পেট্রো ইউয়ানের উত্থান বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলেও মনে করেন অধ্যাপক খারাজমি।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *