✍︎ জাবি প্রতিনিধি ✍︎
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত এখন পর্যন্ত আটক না হওয়ায় প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা ঝুলানোর পর প্রশাসনিক ভবনেও তালা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে আটক করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রমাণ। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনে আসা নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আদৃতা রায় বলেন, ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে গেছে, কিন্তু পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের কোনো খবর নেই। প্রশাসন তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছে কি না, সেটিও প্রশ্নের বিষয়। শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হচ্ছে দ্রুত অভিযুক্তকে করা। এ দাবিতে চাপ সৃষ্টি করতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা ভবনে প্রবেশ ও বের হতে পারবেন বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।
এদিকে গতকাল শনিবার ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গঠিত কমিটিতে ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. সোহেল রানাকে সভাপতি করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাহিদ আখতার, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসরীন সুলতানা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. জহির রায়হান এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান আরিফ।
গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে নিয়ে পাশের জঙ্গলে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার অজ্ঞাতদের আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে সেদিনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা।
নির্দিষ্ট সময়ে গ্রেফতারে ব্যর্থ হলে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি জানান তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা অভিযোগ করেন, আল্টিমেটামের সময় শেষ হলেও প্রশাসন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রক্টর অফিসে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
আন্দোলনকারীরা তখনই ঘোষণা দেন, দাবি পূরণ না হলে পরদিন রেজিস্ট্রার ভবনেও তালা দেওয়া হবে।
এদিকে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ধর্ষণচেষ্টা ও প্রাণনাশ চেষ্টার ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার অনুষ্ঠিত জরুরি প্রশাসনিক সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।
