✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
নির্বাচনের ফলাফলে ২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এখন পর্যন্ত ১৯৯টি আসনে জয়ী হয়েছে।
ফালতা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বাতিল হওয়ায় রাজ্যের মোট ২৯৩টি আসনে ভোট গণনা চলছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৪৮টি আসনের প্রয়োজন হলেও ফালতার নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাত্রা বা ‘ম্যাজিক ফিগার’ নেমে এসেছে ১৪৭-এ। আর বিজেপি সেই গণ্ডি পেরিয়ে এক বিপুল জয়ের পথে রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত ফলাফল এসেছে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে। দুই কেন্দ্রেই নিজের আধিপত্য বজায় রেখে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়ার (ইসিআই) তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুরে ২০তম তথা চূড়ান্ত রাউন্ডের গণনা শেষে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। নন্দীগ্রামেও একই রকম আধিপত্য বিস্তার করেছেন শুভেন্দু, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে স্বাধীনতার পর থেকে রাজ্যে সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ৯২ দশমিক ৮ শতাংশ ও ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ৯১ দশমিক ৪৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনের ফলাফল রাজ্যের পরবর্তী সরকার গঠনে ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় এক চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজেপির এই বিপুল জয় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজ কেন্দ্রে পরাজয়কে রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বড় পরির্তন হিসেবে ধরা হচ্ছে।
কংগ্রেসের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৭৭ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ শাসন করা বামফ্রন্ট জোটের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই না করার অভিযোগে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করেন। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এই আইনজীবী ও শিক্ষার্থীনেত্রী শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে কমিউনিস্টদের পরাজিত করে রাজ্য জয় করেন।
২০১৪ সালে মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই মমতা বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি তার রাজনীতিকে; বিশেষ করে মুসলিমদের সুরক্ষা প্রদানকে হিন্দু জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি নারীদের জন্য একগুচ্ছ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেন এবং বড় শিল্পের জন্য বিতর্কিত জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। চেন্নাইয়ের শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষক রাহুল ভার্মা বলেন, ‘‘মমতার প্রতি দৃশ্যমান জনসমর্থন ছিল এবং তিনি জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোর বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ কাজ করছিল। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিনের জীবনে তাদের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ নিয়ে মানুষ খুশি ছিল না।’’
তিনি বলেন, বিজেপি এবার অনেক বেশি পরিকল্পিত প্রচারণা চালিয়েছে। এটি বিজেপির জন্য কঠিন নির্বাচন ছিল। কিন্তু অসম্ভব ছিল না। অধ্যাপক ভার্মা বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জন্য একটি পথ খোলাই ছিল এবং সব পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় এই ফল এসেছে। শক্তিশালী সরকার-বিরোধী হাওয়া ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে এমন ফলাফল সম্ভব হতো না।’’
এবারের নির্বাচনে প্রায় ৬ কোটি ৮২ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছেন। যা মোট ভোটের প্রায় ৯২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। রাজ্যের ইতিহাসে ভোটদানের একটি রেকর্ডও এটি।
নয়াদিল্লির সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজের রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রবীণ রাই বলেন, তৃণমূল ভোটারদের ‘‘নতুন কিছু দিতে পারেনি’’ এবং দলের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা তীব্র ক্ষোভ মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, যারা তৃণমূলের আদর্শে বিশ্বাসী নয়, তাদের প্রতি দলটির আচরণ শত্রুভাবাপন্ন হয়ে উঠেছিল। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক বঞ্চনা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রয়োজনগুলো বুঝতেও তৃণমূল ব্যর্থ হয়েছে।
রাই বলেন, পশ্চিমবঙ্গের এই পরাজয় জাতীয় পর্যায়ে মোদির বিকল্প হিসেবে মমতার উঠে আসার স্বপ্নকেও দুর্বল করে দেবে। তবে এর প্রভাব কেবল মমতার ওপরই সীমাবদ্ধ নয়; বিজেপির এই জয় এবং তৃণমূলের বিপর্যয় মোদি-বিরোধী সমস্ত দলের রাজনৈতিক শক্তিকে কমিয়ে দেবে।
এটি দুই বছর আগের পরিস্থিতির তুলনায় এক বিশাল পরিবর্তন। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মোদির দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় এবং টিকে থাকার জন্য মিত্রদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রবীণ রাই বলেছেন, সোমবারের এই জয় সাধারণ নির্বাচনের সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা এবং মোদির নেতৃত্বকে জাতীয় পর্যায়ে আরও সুদৃঢ় করবে।
ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ঘুরে ঘুরে নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের সিনিয়র ফেলো নীলাঞ্জন সরকার। তিনি বলেন, তার দলের সদস্যরা ভোটারদের মধ্যে শহর ও গ্রামের বড় ব্যবধান লক্ষ্য করেছিলেন। নীলাঞ্জন সরকার বলেন, শহরের পুরুষ ভোটাররা ব্যাপকভাবে মেরুকৃত হয়ে পড়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম জনসংখ্যা আনুপাতিকভাবে গ্রামীণ এলাকায় বেশি হওয়ায় এবং মেরুকরণের প্রভাবে বিজেপির জয়ের ব্যবধান অনেক বেড়ে গেছে।
ঐতিহাসিকভাবে বিজেপির হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গে দলটির জেতার কোনও সম্ভাবনাই ছিল না বলে নির্বাচন বিশ্লেষকরা যুক্তি দিয়ে এসেছেন। রাজ্যের জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বেশি মুসলিম। নীলাঞ্জন সরকার বলেন, ‘‘অবশ্যই, তা সত্য বলে প্রমাণিত হয়নি; যা আমরা আমাদের গবেষণার সময় লক্ষ্য করেছি।’’
বিজেপি নিজেকে হিন্দু ভোটারদের দল হিসেবে তুলে ধরতে কোনও দ্বিধা করেনি। রাজ্যের বিজেপি নেতা ও সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, হিন্দুদের ভোট একত্রিত হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক মুসলিম ভোটারও এবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন। তবে নির্বাচন কমিশনের বিস্তারিত পরিসংখ্যান না আসা পর্যন্ত এই দাবি যাচাই করা সম্ভব নয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ভোটের এই পরিসংখ্যান জানা যেতে পারে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমি সেই সমস্ত হিন্দু সনাতনীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই; যারা বিজেপির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তিনি মমতার তৃণমূলকে ‘‘মুসলিম-তোষণকারী দল’’ হিসেবেও অভিহিত করেন।
বিজেপির জন্য পশ্চিমবঙ্গের এই জয় গভীর প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। ১৯৫১ সালে বিজেপির পূর্বসূরি ভারতীয় জন সংঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখাপাধ্যায়। তিনি এই রাজ্যেরই বাসিন্দা ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) মাধ্যমে ভোটার তালিকায় সংশোধন আনে। ইসিআই দেশটির এক ডজনেরও বেশি রাজ্যে ভোটার তালিকায় এই সংশোধনী এনেছে।
পশ্চিমবঙ্গের এই বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় রাজ্যের ৭.৬ কোটি ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ, অর্থাৎ ৯০ লাখেরও বেশি মানুষকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। যার ফলে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার হারিয়ে ফেলেন ওই ভোটাররা। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ ভোটারকে অনুপস্থিত অথবা মৃত ঘোষণা করা হয়। আর বাকি ৩০ লাখ ভোটার ভোট দিতে পারেননি। কারণ নির্বাচনের আগে স্বল্প সময়ের মধ্যে কোনও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাদের মামলার শুনানি করতে পারেনি।
মমতার তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্যের অন্যান্য বিরোধী দলগুলো ভোটার তালিকা সংশোধনের অসঙ্গতি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মোদির বিজেপির পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মুসলিমদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
ভোটার তালিকায় ‘‘অস্পষ্ট, তড়িঘড়ি ও অসাংবিধানিক’’ সংশোধন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন মমতা। কিন্তু লাখ লাখ মানুষের ভোটাধিকার পুনর্বহাল না করলেও নির্বাচন কমিশনকে ক্ষতিগ্রস্ত ভোটারদের একটি তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে।
সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের নীলঞ্জন সরকার বলেন, যখন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভোটার তালিকায় আমার নাম থাকা উচিত কি না—এটিই প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, তখন রাজনীতি আর স্বাভাবিক ছন্দে থাকে না। ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে যে মাত্রার মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তা রাজ্যের বাইরের মানুষের পক্ষে অনুধাবন করা কঠিন।
নরেন্দ্র মোদির সরকার এই নির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গে ২ হাজার ৪০০ কোম্পানি আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে; যা যেকোনও রাজ্যের নির্বাচনে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, রাজনৈতিক সহিংসতার ভয় ছাড়াই নির্বাচনী কর্মকর্তারা যাতে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্যই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে তৃণমূল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে বলেছে, এই বাহিনী ভোটারদের ভয় দেখাতে অথবা প্রভাবিত করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাহুল ভার্মা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর এই বিশাল উপস্থিতি বিজেপির জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে থাকতে পারে। যারা দোদুল্যমান ভোটার ছিলেন কিংবা তৃণমূলের স্থানীয় সাংগঠনিক ক্ষমতার ভয়ে থাকতেন, তারা হয়তো এর ফলে প্রভাবিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘‘ভারতের বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আস্থার সম্পর্ক যে এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে আছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।’’
তবে আল জাজিরার সঙ্গে আলাপকালে নীলাঞ্জন সরকার ও রাহুল ভার্মা—উভয় বিশ্লেষকই একমত পোষণ করে বলেছেন, কেবল ভোটার তালিকা সংশোধনই বিজেপির এই বিশাল জয়ের একমাত্র কারণ হতে পারে না। এর পেছনে সরকার-বিরোধী মনোভাব এবং ধর্মীয় মেরুকরণের মতো আরও বেশ কিছু বিষয় কাজ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এত সহজে হাল ছাড়বেন না। ভোটগণনা চলাকালীন নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় মমতা তার দলের কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, শেষ ব্যালট গণনা না হওয়া পর্যন্ত যেন কোনও কর্মী কিংবা নেতা ভোটগণনা কেন্দ্র ছেড়ে না যান।
তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে সব জায়গায় দমন করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে গায়ের জোরে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের অফিস ভাঙচুর করে দখল করে নেওয়া হচ্ছে। আমি আপনাদের সাথে আছি। ভয় পাবেন না। আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করব। নীলঞ্জন সরকার বলেন, মমতার এই হুঁশিয়ারি নিছক কথার কথা নয়। তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবেই সামনের দিনগুলোতে বড় ধরনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন দেখতে যাচ্ছি।
