রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই পদে তাকেই প্রার্থী মনোনীত করার ব্যাপারে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে বলে দলটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা বলেছেন, তাদের দলের শীর্ষ নেতা এরই মধ্যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের কারও কারও সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনীত করার প্রশ্নে আলোচনা করেছেন।

এ আলোচনা থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরেরই দল থেকে মনোনীত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের ওই নেতা।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, দলের শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, ওই আলোচনায় মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

দলীয় নেতাদের মতে, বিএনপি এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় একজন অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য রাজনীতিককে দেখতে চায়। সে বিবেচনায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দল পরিচালনায় ভূমিকা এবং জাতীয় রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতার কারণে মির্জা ফখরুলের নাম সামনে এসেছে।

তাদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টাতে দমন-পীড়ন, নির্যাতনে বার বার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়াকে বয়সের শেষ প্রান্তে কারাগারে থাকতে হয়েছে। তাদের আরেক শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ছিলেন লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে।

শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে লম্বা সময় ধরে বিএনপির সংকটে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের ভেতরে মির্জা ফখরুল ছিলেন দৃশ্যমান মূল নেতৃত্বে।

বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লন্ডনে নির্বাসনে থেকেই তারেক রহমান তাদের দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু দেশে রাজনীতির মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত করা এবং বিএনপিকে ঐকবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেয়েছিলেন।

মির্জা ফখরুলের এ ভূমিকাকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ণ করেন বলে দলটির একাধিক নেতা বলছেন।

তারা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে মহাসচিব হিসেবে দলের ভেতরে-বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরে যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে তাকে সম্মান দেওয়ার বিষয় বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে তাদের দলে।

একইসঙ্গে তারা বলছেন, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী যদিও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু অতীতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন রাষ্ট্রপতি।

এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরত আনা হয়েছে। অতীতে সেই সময়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছিল রাষ্ট্রপতির ভূমিকা।

এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেও বিএনপি সরকার এবার দলের ভেতর থেকে সক্রিয় রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি করার অবস্থান নিয়েছে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল ছাড়াও রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।

মির্জা ফখরুলকে নিয়ে দলটির ভেতরে ভিন্নমতও রয়েছে। একাংশের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা উচিত। অন্যদিকে আরেকটি অংশের মত, সরকার ও দল পরিচালনায় তার মতো অভিজ্ঞ নেতার সক্রিয় ভূমিকা এখনও প্রয়োজন। দল অনেকটাই ভারসাম্যহীনতায় ভুগবে তাকে রাজনীতি থেকে অবসরে পাঠালে। এছাড়া মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা হলে নতুন মহাসচিব নিয়োগ দিতে হবে বিএনপিকে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন একজনকে নিয়োগ দিতে হবে।

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে বলা আছে। ফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি যাকে প্রার্থী মনোনয়ন করবে, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

এই বিষয়কে উল্লেখ করে কোনো প্রার্থী না দেওয়ার কথা বলছে জামায়াত। কারণ তারা প্রার্থী দিলে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে এই যুক্তিই তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে সরকারি দল বিএনপি সংসদের বিরোধী দলগুলোর কোনো মতামত নিচ্ছে না।

যদিও বাংলাদেশে জেনারেল এরশাদের শাসনের পতনের পর সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবারই ১৯৯১ সালে সংসদে ভোটাভুটি হয়েছিল।

তখন জাতীয় সংসদে সরকারি দল বিএনপি প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বান ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে।

তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ১৩ আগস্ট, যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট, আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট।

আইন অনুযায়ী, নির্বাচনি কর্মকর্তা নির্ধারিত দিনে মনোনয়নপত্র যাচাই করবেন।

প্রার্থী একজন হলে এবং যাচাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ বিবেচিত হলে কমিশন তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে।

তবে, একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে নির্বাচনের জন্য তাদের নাম ঘোষণা করবে কমিশন।

তখন সংসদ অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন হলে স্পিকার সাত দিন আগে বৈঠক আহ্বান করতে পারেন।

উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *