নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০০

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎

নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০০ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া এখনো নিখোঁজ আছেন আরও ২ হাজার ৫০২ জন।

নিখোঁজের সংখ্যা সরকারি হিসেবের চেয়ে আরও অনেক বেশি বলে জানা গেছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা ৭৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। যেগুলো বন্যাকবলিত বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া গেছে।

এরমধ্যে চিতাওয়ানে সর্বোচ্চ ২৫৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর রয়েছে পূর্ব নাওয়ালপারাসি। সেখানে পাওয়া গেছে ১৮৪টি মরদেহ। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ ৮২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে পশ্চিম নাওয়ালপারাসিতে।

আর গোর্খায় পাওয়া গেছে ৫৮টি মরদেহ। নুয়াকোটে এ সংখ্যা ৫২। ধাধলিংয়ে ৫০, তানাহুনে ৩৬ এবং রাসুয়া থেকে ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে রাসুয়া জেলায়। তবে এটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে মরদেহগুলো ভাসতে ভাসতে কয়েকশ মাইল দূরে চলে গেছে।

অপরদিকে এখন পর্যন্ত জীবিত উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৮ হাজার ১৮৬ জনকে। জীবিতদের উদ্ধারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে হেলিকপ্টার। বন্যার কারণে কিছু কিছু জায়গা এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে চারদিন পার হলেও সেখানে এখনো পায়ে হেঁটে বা গাড়িতে করে উদ্ধারকারীরা যেতে পারেননি। সেসব স্থানে যাওয়ার একমাত্র উপায় হলো হেলিকপ্টার।

এদিকে গতকাল নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, এখন পর্যন্ত উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর মধ্যে মাত্র ২০টি শনাক্ত করা হয়েছে। যেহেতু মর্গে আর স্থান নেই এবং মরদেহগুলো রাখার জন্য পর্যাপ্ত ফ্রিজারও নেই; তাই এগুলো এখন সমাহিত করা হবে। এরআগে মরদেহগুলো থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে রাখা হবে। যেন পরবর্তীতে তাদের আত্মীয়-স্বজনরা তাদের শনাক্ত করতে পারে।

জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

নেপালের রসুয়া জেলায় বিধ্বংসী বন্যার ৩ দিন পর উদ্ধারকারীরা কাদা আর ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে ছয় বছর বয়সী এক কন্যা শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। স্থানীয় শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে রসুয়া জেলায় বন্যার ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। বেঁচে থাকা মানুষদের খুঁজে বের করতে দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাঝে নাটকীয় এই উদ্ধার অভিযান বিরল আশার আলো দেখিয়েছে। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটে কোশী নদীর উপচে পড়া পানিতে সৃষ্ট বন্যায় ডুবে যায় রসুয়া জেলার তিমুরে গ্রাম। সেখানে একটি ভবনে বন্যার ধ্বংসাবশেষের নিচে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনতে পান উদ্ধারকারীরা।

উদ্ধার অভিযান পরিচালানোর সময় আর্মড পুলিশ ফোর্সের (এপিএফ) সদস্যরা মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান। এ সময় তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেন এবং মাটি খোড়া শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হন এপিএফের সদস্যরা।

প্রাথমিকভাবে তিমুরে অবস্থিত এপিএফের সীমান্ত চৌকিতে শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে শিশুটিকে জরুরি ভিত্তিতে হেলিকপ্টারে করে দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুতে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট বিলম্ব ঘটে।

পরে শনিবার দুপুরের দিকে আবহাওয়া অনুকূলে আসায় হেলিকপ্টারে করে তাকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শিশুটি র্ব্তমানে কাঠমাণ্ডুর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

শিশুটিকে উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করায় নেপালের দুযোর্গ মোকাবিলায় নিয়োজিত কর্মীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‌‌‘‘আর্মড পুলিশ ফোর্স টিমকে সম্মান, যারা কখনোই খোঁজাখুঁজি থামায়নি।’’

অন্য এক ব্যবহারকারী বলেন, ‘‘যখন সব আশা হারিয়ে গিয়েছিল, তখন তাকে খুঁজে পাওয়া গেল।’’

এমনকি কেউ কেউ শিশুটিকে উদ্ধারের খবর শেয়ার করার জন্য অন্যদের অনুরোধ করেছেন; যাতে শিশুটির পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়। এক্সে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘‘কর্তৃপক্ষ এখন তার পরিবার বা আত্মীয়দের খুঁজছে। যদি কেউ মণীষা মগরকে চিনে থাকেন কিংবা তার পরিবারের সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।’’

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *