✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩০৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৬২৪ জন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালেই ১ হাজার ২৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ ৫ হাজার ৮৩ জন। তিব্বতে ২১ জনের মৃত্যু ও ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
গত ২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ও পাহাড় ধসের পর আকস্মিক বন্যা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়। এতে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা, সড়ক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পর্বতারোহী ও কৈলাস-মানস সরোবরে যাওয়া তীর্থযাত্রীরাও রয়েছেন।
বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া কিছু মরদেহ ভারতেও পৌঁছেছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব মরদেহ নেপাল-তিব্বতের মৃতের সরকারি হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি।
৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার দুই শ্রমিক
নেপালে আকস্মিক বন্যার নয় দিন পর ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ওই বন্যায় এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও অনেকে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার করা ব্যক্তিদের একজন সঞ্জয় শাহ। নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির (এনইএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুরেশ রাউত জানিয়েছেন, উদ্ধার করা ব্যক্তিকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। শাহ সংস্থাটির একজন মেকানিক্যাল ফোরম্যান।
শাহকে ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উদ্ধার হওয়া প্রথম ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। তার সহকর্মী সুরেশ চৌধুরী বিবিসিকে বলেন, খবরটি পেয়ে তিনি খুবই আনন্দিত। অন্যরাও জীবিত উদ্ধার হবেন এই ঘটনায় সেই আশা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পটি থেকে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন কবির মহার্জন।
নেপালের নদীপথের পাশে থাকা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর বিস্তৃত সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কে পাঁচ হাজারের বেশি নিখোঁজ মানুষের মধ্যে শত শত শ্রমিক রয়েছেন। উদ্ধার অভিযানকে এগিয়ে নিতে প্রকৌশলীরা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতে বাতাস পাম্প করে দিচ্ছেন।
বিবিসি নেপালিকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে অন্তত ৪২ জনকে উদ্ধারের আশা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে জীবিতদের সঙ্গে যোগাযোগের মুহূর্তটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে আওয়াজ শোনার পর উদ্ধারকারীরা চিৎকার করে বলেন, আতঙ্কিত হবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধারে এসেছি। এরপর ভেতর থেকে ক্ষীণভাবে ‘ঠিক আছে’- এমন উত্তর শোনা যায়।
এনইএর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুরেশ রাউত জানিয়েছেন, তারা বিশ্বাস করছেন সুড়ঙ্গের ভেতরে ৩৯ জন শ্রমিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে কতজন জীবিত রয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তারা। তবে এখন পর্যন্ত দুইজন জীবিতকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
