আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নেতানিয়াহুর গোপন বৈঠক

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফর করেছেন। এই সফরে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে গোপনে বৈঠকও করেছেন তিনি।

দুই নেতার বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ইরান। তবে এ সফরের বিষয়টি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর নিশ্চিত করেনি। ইরান নিয়ে ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ছে। এমনকি ইরান যুদ্ধের মধ্যেও দুই দেশ একে অপরের পাশে থাকছে।

যদিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এবং আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেতানিয়াহুর সফরের বিষয়টি সিএনএনের কাছে স্বীকার করেন।

ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজ-এর একটি প্রতিবেদন নিয়ে নতুন করে আলোচনার মধ্যেই এই গোপন সফরটি অনুষ্ঠিত হলো। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন যে গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি বড় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সেই সতর্কবার্তা ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা বা সামরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছানো হয়নি।

নেতানিয়াহু এই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন এবং হারেৎজের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া তিনি একটি কঠিন পুনর্নির্বাচন প্রচারণার মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে বিরোধী নেতারা নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য তাকে দায়ী করছেন।

০২০ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা খোলামেলা ও সরাসরি যোগাযোগের পথ বজায় রেখেছে বলে এর আগে জানিয়েছিল দেশটি। 

রয়টার্সকে এর আগে এক আমিরাতি সূত্র বলেছিল, নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্য দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আলোচনা করা হয়, রাষ্ট্রপ্রধানদের পর্যায়ে নয়।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুর দিকে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক হয়েছে—এমন খবরও এর আগে আবুধাবি অস্বীকার করেছিল।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস -এর আওতায় আমিরাত ও ইসরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনকারী প্রথম দিকের আরব দেশগুলোর একটি হলো আমিরাত। 

এ বছর আঞ্চলিক সংকটে ইরানের হামলার শিকার হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও জেরুজালেম উভয়ের সঙ্গেই সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছে আবুধাবি। ইসরায়েলের সঙ্গে এই সম্পর্ক আমিরাতকে আঞ্চলিক বিষয়ে যোগাযোগের পথের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগও দিচ্ছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *