ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারাজ উদ্বোধনের আশা

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

গঙ্গা চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, নাকি নতুন করে চুক্তি নবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে তারা।

বুধবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি, তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বলা হয়, ভারতের সঙ্গে এখন বাংলাদেশের সম্পর্ক খুব একটা উষ্ণ নয়। তারপরও গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে নেদারল্যান্ডস ও চীন সহায়তা দিতে চাইছে। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দুই ফেজে হবে। প্রথম ফেজের মেয়াদ সাত বছর। এটি বাস্তবায়ন হলে রাজশাহী অঞ্চলের পানিসংকটের সমাধান হবে। দ্বিতীয় ফেজের সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। দ্বিতীয় ফেজের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে খুলনা অঞ্চলের সমস্যার সমাধান হবে।

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে গঙ্গা চুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ জড়িত থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চুক্তির ধারাবাহিকতা ও নবায়নের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগরে কমিটির পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বৈঠকের শুরুতে প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী সংশোধনী সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হয়। পরে প্রথম বৈঠকে গৃহীত জামালপুর জেলার ব্রহ্মপুত্র ও জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন প্রতিরোধ এবং জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীর বাঁ দিকের তীর, পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদ ও আলাই নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজের প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া রাজশাহী ও নাটোর জেলার বারনই নদী পুনঃখনন, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা উন্নত করতে নাফ নদী বরাবর পোল্ডারসমূহ (৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি ও ৬৮) পুনর্বাসন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

একই সঙ্গে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়।

কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলনের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু, মাজহারুল ইসলাম, ফরিদুল কবীর তালুকদার, ইজ্জত উল্লাহ, অলি উল্লাহ এবং মশিউর রহমান খান।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *