বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর জাতীয় গ্রিডের পুনরুদ্ধার সম্পন্ন

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর জাতীয় গ্রিডের পুনরুদ্ধার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় গ্রিডের সব লাইন ও উপকেন্দ্র চালু হওয়ার কথা জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।

সংস্থাটি জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা হচ্ছে। উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষিপ্ত লোডশেডিং কমে আসবে।

অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে জনসাধারণের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে রাজধানীর মগবাজার, বনশ্রী, খিলগাঁও, বাসাবো, নন্দিপাড়া, মাদারটেকসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চল এবং চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সচিবালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

পাওয়ার গ্রিড পিএলসি জানিয়েছে, ঢাকার পূর্বাঞ্চল (ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন, মতিঝিল ইত্যাদি) এবং চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ নেই। ধীরে ধীরে বিদ‍্যুৎ ফেরানোর চেষ্টা চলছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে সংযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ করছেন। জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল ও স্বাভাবিক আছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬০১ মেগাওয়াট। ওই সময় উৎপাদন হয় ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতি ছিল ২৯৮ মেগাওয়াট। 

দেশে এর আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর দুপুর ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় শুরু হয়। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। পরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির দুজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এর আগে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *