✍︎ রাঙামাটি প্রতিনিধি ✍︎
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলারপর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের আসা ও অবস্থান করা বন্ধ থাকবে।
রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বর্তমানে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের আগামী মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৫টার মধ্যে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সন্ধ্যায় রাঙামাটির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণবশত আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো।
এতে আরও বলা হয়, একই সঙ্গে বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত পর্যটকদের আগামী মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় সাজেকে ভ্রমণ চালুর বিষয়ে পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র দলকে সাজেক থেকে বিতাড়িত করার দাবিতে ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ অবশেষে প্রত্যাহার করে নিয়েছে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে সংগঠন দু’টি অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি একাধিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।
তবে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটন স্পট বন্ধ ঘোষণা করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।
এদিকে রোববার সকাল ৬টা থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং ও অবরোধ করেছিল সংগঠন দু’টির সমর্থকরা যে কারণে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী সব রকম যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
অবরোধের কারণে সাজেকে সকাল থেকে কোনো পর্যটন প্রবেশ কিংবা বের হতে পারেনি।
রোববার সন্ধ্যা থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ আগামী দু’দিন অর্থাৎ ১২ এবং ১৩ অক্টোবর স্থগিত করেছে সংগঠনগুলো।
এদিকে দুপুর আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ এসকর্টের সহায়তায় সাজেক ছেড়েছেন আটকে পড়া প্রায় ১ হাজার ২০০ পর্যটক এবং সাজেকে নতুন করে প্রবেশ করেছে ৫৮টি চাঁদের গাড়িসহ (জিপ) শতাধিক পরিবহন। এসব পরিবহনে করে প্রায় এক হাজার পর্যটক সাজেকে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বর্তমানে সাজেকে কোনো পর্যটক আটকা নেই। প্রশাসন চারদিক নজর রাখছে, আমরা বৈঠকে আছি।
গত ৮ অক্টোবর সাজেকের উজোর বাজারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সাজেক থেকে সন্তু গ্রুপের পিসিজেএসএস সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এসময়ের মধ্যে পিজিজেএসএস’র সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে না নেওয়ায় রোববার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবোরোধের ডাক দেয় স্থানীয় সংগঠন দু’টি।
