✍︎ ক্রীড়া প্রতিবেদক ✍︎
১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসছে স্পেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরার পর রাজধানী মাদ্রিদে রাজকীয় সংবর্ধনা পেয়েছেন লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
রাজপ্রাসাদ থেকে শুরু করে শহরের রাজপথ, সবখানেই ছিল উৎসবের আবহ। লাখো সমর্থকের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বরণ করে নিয়েছে স্পেন।
সোমবার দুপুরে মাদ্রিদে পৌঁছায় স্পেন দল। বিমান থেকে নেমেই অধিনায়ক রদ্রি দুই হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন।তার পাশে ছিলেন প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লৌজান। এরপর পুরো দল একসঙ্গে ট্রফি নিয়ে ছবি তোলে।
উৎসবের মঞ্চে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এই দলের কোচ হতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। দুই বছর আগে বলেছিলাম, আমরা একসঙ্গে থাকলে সবচেয়ে শক্তিশালী। আজ সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন দেখলাম।’
মাদ্রিদের সংবর্ধনার মধ্য দিয়েই শেষ হচ্ছে না বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উদযাপন। আগামী কয়েক দিনে স্পেনের বিভিন্ন শহরেও দলটির সম্মানে সংবর্ধনা ও বিজয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
সেখান থেকে দুটি বাসে করে দলটি যায় জারজুয়েলা রাজপ্রাসাদে। সেখানে রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে, রানি লেতিসিয়া, যুবরাজকন্যা লিওনর ও রাজকুমারী সোফিয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানান। একে একে সব খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাজপরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে জড়িয়ে ধরেন রাজা ফেলিপে। যা অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
পরে রাজপ্রাসাদের বাগানে বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে রাজপরিবার ও পুরো দলের একটি স্মারক ছবি তোলা হয়। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাজার হাতে জাতীয় দলের একটি জার্সিও তুলে দেন।
এরপর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন রাজা ফেলিপে। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘তোমরা কিছুটা আঘাত নিয়ে ফিরেছ, সমালোচনাও শুনতে হয়েছে। কিন্তু দেশের জন্য বিশ্বকাপ ঘরে আনার আনন্দের কাছে সেসব কিছুই নয়। আজ যে হাসি, করতালি আর আবেগ তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে, তার সবটুকুই তোমরা প্রাপ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের খেলা দেখা ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। তোমরা আবারও স্পেনকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছ। স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে তোমরা এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।’
রাজপ্রাসাদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দলটি যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সেখান থেকে ছাদখোলা বাসে শহর প্রদক্ষিণ শুরু করে। বিশ্বকাপ ট্রফি এক নজর দেখতে মাদ্রিদের রাস্তায় নেমে আসে কয়েক লাখ সমর্থক। পুরো যাত্রাপথে ‘কাম্পেওনেস, কাম্পেওনেস’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে শহর।
শোভাযাত্রার শেষ গন্তব্য ছিল ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কয়ার। সেখানেই সমর্থকদের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের মূল উদ্যাপনে অংশ নেয় স্পেন দল। এই উদ্যাপনে প্রায় ১০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল লা রোজা। ইউরো ২০২৪ জয়ের পর এবার বিশ্বকাপও জিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
