✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
এসএসসি পরীক্ষায় দুই বিষয়ে ফেল শিক্ষার্থীদের ১৫ দিনের মধ্যে আবার পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, ফেল করার ধারাবাহিকতা বছরের পর বছর চলতে দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য বারবার পরীক্ষা নেওয়া বা কালক্ষেপণের সুযোগ রাখবে না সরকার। যারা সাধারণ শিক্ষায় এগোতে পারবে না, তাদের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায় নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) মিলনায়তনে ৪৯তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৫১ জন কর্মকর্তার ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যও দেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার বিষয়ে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সরকার বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে একটি প্রজন্মকে নৈতিকভাবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে খেলাধুলা শুরু হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়েও খেলাধুলা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ আয়োজন করা হচ্ছে। পড়ালেখা ও খেলাধুলার সমন্বয়ে বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. সরদার কেরামত আলী। এতে বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া আরডিএর মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ প্রামানিক ও শিক্ষামন্ত্রীর সহধর্মিণী নাজমুন নাহার বেবী।
পরে শিক্ষামন্ত্রী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা খান একাডেমি আয়োজিত ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছিলেন, অকৃতকার্য এসএসসি পরীক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। এর তিনদিন পর শিক্ষামন্ত্রীও এ ঘোষণা দিলেন।
গত ১০ আগস্ট ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৩৮ শতাংশ। উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের পর আরও ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়।
