✍︎ ক্রীড়া প্রতিবেদক ✍︎
মঙ্গলবারই ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পান তাওহীদ হৃদয়। পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে তিনি ট্রিপল সেঞ্চুরি পেয়েছেন। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিদেশের মাটিতে এমন কীর্তি গড়লেন হৃদয়। রকিবুল হাসান ও তামিম ইকবালের পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা তৃতীয় বাংলাদেশি এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
চারদিনের ম্যাচের শেষদিনের দ্বিতীয় সেশনে এসে সেঞ্চুরি পেলেন। বোস্টের বল মিড অনে ফেলে দ্রুত দৌড়ে দুই রান নিয়ে ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ হয় তার। ৪৫১ বল খেলে এই কীর্তি গড়েছেন হৃদয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের জবাব দিতে নেমে শুরুতে কয়েকটি উইকেট হারালেও দলকে ঘুরে দাঁড় করান হৃদয়। দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে একদিকে দলের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়েছেন, অন্যদিকে ব্যক্তিগত অর্জনকেও নিয়ে গেছেন অভূতপূর্ব উচ্চতায়।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে পচেফস্ট্রুমে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তাওহীদ হৃদয়। বিদেশের মাটিতে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কীর্তি গড়েন তিনি। তবে এখানেই থেমে থাকেননি এই টাইগার ক্রিকেটার। এবার আরও একটি রেকর্ডে নিজের নাম সবার ওপরে তুলেছেন হৃদয়। এতদিন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩৪ রান ছিল তামিম ইকবালের। ২০১৯ সালের বিসিএলে পূর্বাঞ্চলের হয়ে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে মিরপুরে এই কীর্তি ছিল তার।
দক্ষিণ আফ্রিকায় তার ওই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটসম্যান হৃদয়। তিনি ৩৫০ রানে অপরাজিত থাকার সময় ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার সাইফউদ্দিন আউট হওয়ার পর খেলা শেষ হয়। হাতে থাকা ৪ উইকেট নিয়ে বুধবার শেষ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সকাল সকালেই ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। অষ্টম উইকেট যখন পড়ে, হৃদয়ের রান তখন ২২৫।
সেখান থেকে তাকে দুর্দান্ত সঙ্গ দেন রেজাউর রহমান। তাকে নিয়েই ইনিংসের ইতি টেনেছেন হৃদয়। প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৬৭৬ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। ৩৮১ বল খেলা হৃদয় ৩৫০ রান আর ১১০ বল খেলা রেজাউর ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন।
হৃদয়ের এই অবিশ্বাস্য ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন জাকের আলী। পঞ্চম উইকেটে তার সঙ্গে হৃদয়ের ১৫১ রানের জুটি ম্যাচে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনে। মাত্র ছয় রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন জাকের—১৬৮ বলে ৯৪ রান করে থামেন তিনি।
এরপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে আরও বড় জুটি গড়েন হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনে যোগ করেন ১৮৫ রান। সাইফউদ্দিনের অবদান ১৭১ বলে ৮৭।
অন্যদিকে, ম্যাচের শুরুতে দাপট দেখিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’। প্রথম ইনিংসে ৫১২ রান করে স্বাগতিকরা। লেসেগো সেনোকওয়ানের ১১১ এবং সিনেথেম্বা কেশিলের ১২৮ রানের সঙ্গে গ্যাভিন কাপলানও সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে থামেন ৯৭ রানে।
সেই বিশাল স্কোরের জবাব দিতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ‘এ’ ছিল ৩৭১/৬। সেখান থেকে শেষ দিনে হৃদয়ের ব্যাটে গল্পটাই বদলে গেল।
১৬৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবু বাংলাদেশের অবশ্য জয়ের সম্ভাবনা তেমন নেই। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকাকে অলআউট করার জন্য হাতে পুরো এক সেশনও নেই বোলারদের।
