✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে ফের গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শনিবার (৮ আগস্ট) পিবিআই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পিবিআই জানায়, কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান চেম্বার জজ আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় এবং একই আদেশে পুলিশের প্রতি তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে ও আসামির পালিয়ে যাওয়া রোধকল্পে শনিবার সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পিবিআই। তাকে কুমিল্লা আদালতে পাঠানো প্রক্রিয়াধীন।
২ আগস্ট হাফিজুর রহমানকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে ৪ আগস্ট তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে আবেদন করে। ৬ আগস্ট হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয় পুলিশকে।
গত ২৫ এপ্রিল থেকে হাফিজুর রহমান (৫২) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার।
সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়।
২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান। গ্রেফতারের পর সিআইডি তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়। তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। পরদিন তাঁর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
