✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের প্রস্তাব করা সাত দিনের রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার হোয়াইট হাউস থেকে টেনেসির উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি।’
মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নভেম্বরের শুরুতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প আবারও ইরানে বোমা হামলার অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের প্রেস কভারেজ নিয়ে সিএনএনের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধের মধ্যেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও গার্ডিয়ান জানায়, যুদ্ধের অবসান ও সাতদিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।
সে সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার অংশ হিসেবে আব্বাস আরাঘচি নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। গণমাধ্যম দুটিকে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাতদিনের মধ্যে প্রণালিটি খুলে দেওয়া ও আলোচনা শুরু হবে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গত মঙ্গলবার জাপানের বার্তা সংস্থা ‘কিয়োদো’ প্রথম এমন তথ্য প্রকাশ করেছিল। কিন্তু প্রতিবেদনটির দাবি তখন ইরানি গণমাধ্যম অস্বীকার করে। একইদিন নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাঘচি।
নিউইয়র্ক টাইমস আরাঘচির রবাত দিয়ে জানিয়েছে, সবশেষ পরিকল্পনায় সাতদিনের জন্য লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া, জব্দকৃত অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ ছাড়, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্ত আছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, শর্ত পূরণ হলে সপ্তমদিনের মাথায় ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। আরাঘচি বলেছেন, পরিকল্পনাটির বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় আছেন। চীনও এই প্রস্তাবকে সমর্থন দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেছিলেন, তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে ইয়েমেনে শত্রুতা বন্ধের বিষয়টিও আছে।
যুদ্ধের অবসান ও হরমুজ খুলে দিতে গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। এর আওতায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু কিছুদিন পর ওই সমঝোতা ভেঙে যায়। এরপর দুই দেশ হরমুজ প্রণালি ঘিরে পুনরায় সংঘাতে জড়ায়।
কী ছিল ইরানের সাত দিনের পরিকল্পনায়
নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন রোডম্যাপ দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সপ্তম দিনের শেষে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং শান্তি আলোচনা আবার শুরু হবে।’
যদিও আরাঘচি প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেননি, তবে জানান এটি মূলত গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ।
চলতি বছরের জুনের সেই সমঝোতায় হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল ৬০ দিনের জন্য টোলমুক্ত রাখার কথা ছিল, যাতে ওই সময়ের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু ৬০ দিনের পর কী হবে, সে বিষয়ে সমঝোতায় স্পষ্ট কিছু উল্লেখ ছিল না।
নতুন প্রস্তাবে ইরান সেই দীর্ঘ সময়সীমাকে কমিয়ে মাত্র সাত দিনে নিয়ে এসেছে এবং আলোচনার ক্রমও বদলে দিয়েছে।
প্রথম ধাপে সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ হবে। এর মধ্যে শুধু ইরান নয়, লেবাননেও চলমান সংঘর্ষ বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করবে।
এরপর সপ্তম দিনের শেষে হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
সবশেষে হরমুজ চালু হওয়ার পর শুরু হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তৃত শান্তি আলোচনা।
অর্থাৎ, ইরানের প্রস্তাবে পারমাণবিক ইস্যু প্রথম নয়; বরং হরমুজ পুনরায় চালু করাকেই আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে।
