ইরানের সঙ্গে শিগগিরই চুক্তির আশা ট্রাম্পের

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎

ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; যদিও তেহরান এ দাবি অস্বীকার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বলেছেন, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ইরানের সামনে এটি ‘শেষ সুযোগ’। না হলে দেশটিকে খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

হোয়াইট হাউসে গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছেন।

একই দিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না। তবে ট্রাম্প নিজের দাবির পক্ষে জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা এখন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি তাদের (ইরান) জন্য একটি ভালো চুক্তি সই করার শেষ সুযোগ। পরিস্থিতি একেবারে খারাপ হওয়ার আগে আমি তাদের শেষবারের মতো সুযোগ দিতে চাই।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় দুটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। একটি হলো হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া, যা তাঁর মতে ‘হয়তো আগামীকালই’ সম্ভব। অন্যটি ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। সেটি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আকস্মিক হামলা চালানোর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। মাঝেমধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা হলেও পাঁচ মাসের বেশি সময় পরও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হচ্ছে।’

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় অন্যতম প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ইরান আবারও এ প্রণালিতে অবরোধ জোরদার করেছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে বাধা দিচ্ছে এবং কিছু জাহাজে গুলি চালিয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘ইরান স্বীকার করুক বা না করুক, বহু বছর ধরে তাদের তৈরি করা এ সংকটের সমাধান নিয়ে আমরা সত্যিই আলোচনা করছি।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ কার্যকর রয়েছে। আমরা না চাইলে ইরানে কিছুই পৌঁছাতে পারবে না। আর কোনো চুক্তি বা পুরোপুরি আত্মসমর্পণ না করলে দেশটিতে কিছুই পৌঁছাতে দেওয়া হবে না।’

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল করত। তবে এখন ইরান প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে এবং জাহাজ থেকে ফি আদায় করতে চায়, যা যুক্তরাষ্ট্র মানছে না।

বর্তমানে ইরান জাহাজগুলোকে শুধু নিজেদের উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহার করতে দিচ্ছে।

গত রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাঘাই বলেন, হরমুজের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে তেহরান।

বাঘাই আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে যাচ্ছি, যা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এটি করা হবে।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালি (এখনই) আবার খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।

যুদ্ধের শুরু থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতেই এ যুদ্ধের প্রয়োজন। গতকালও তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে।’

পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *