দূরন্ত শৈশব
-আলেয়া মান্নান
নৌকায় চড়ি নদীর বুকে,
ডাঙায় এসে দিই টুকে।
রাখালের সাথে বাঁশির সুরে
পায়ে পায়ে বহু দূরে।
সময় পেরোতো মাছ ধরে,
পরে যাই আবার ধপাস করে।
সঙ্গীরা সব উঠে হেসে,
আনন্দটা যেনো যায় ভেসে।
খেলা হতো গোল্লাছুট,
তৈরী যেনো দাড়িয়াবান্ধার কূট।
পড়ার সময় দেওয়া ফাঁকি,
অনেক কাজ আছে বাকি।
চুরি করতে বাগানের ফল,
গাছের গোড়ায় দিই জল,
এটাই যে চুরির কৌশল।
সহপাঠিরা ছিলাম একদল।
সন্ধ্যা হলে পড়ার নামে,
ফিসফিস কথার আসর জমে।
জোনাকী ধরে বোতলে ভরে,
ম্যাজিক দেখাই খেলা করে
ওমনি করে দিন শেষ,
সহপাঠীদের মনোনিবেশ।
************************
আমার ভয় হয়
-আলেয়া মান্নান
তুমি বলো, তুমি গোলাপ ভালোবাসো।
কিন্তু ছুঁতে সাহস পাওনি, কাঁটা আছে বলে।
তুমি বলো, তুমি শীত ভালোবাসো।
কিন্তু হেমন্ত আসলে, কম্বল জড়িয়ে নাও গায়ে।
তাই তো আমি ভয় পাই,
যখন বলো তুমি ভালোবাসো আমায়।
তুমি বলো, তুমি গরম ভালোবাসো।
কিন্তু শীতল হাওয়া খোঁজো গ্রীষ্মের দুপুরে।
তুমি বলো, তুমি নদীর স্রোত ভালোবাসো।
কিন্তু দালানে বাস করো বর্ষার ভয়ে।
তাই তো আমি ভয় পাই,
যখন বলো তুমি ভালোবাসো আমায়।
তুমি বলো, তুমি জোছনা ভালোবাসো।
কিন্তু রাতে তুমি বন্ধ ঘরে থাকো।
তুমি বলো, তুমি পাহাড় ভালোবাসো।
কিন্তু তার চূড়ায় তাকিয়েও দেখো না, সে উঁচু বলে।
তাই তো আমি ভয় পাই,
যখন বলো তুমি ভালোবাসো আমায়।
তুমি বলো, তুমি ঝর্ণা ভালোবাসো।
কিন্তু সেখানে কভু দাঁড়াওনি, ভিজে যাবার শঙ্কায়।
তুমি বলো, তুমি ভালোবাসো আমায়।
কিন্তু তুমিই আবার বলো, ভুলে যেতে তোমায়।
পরিবার-পরিস্থিতির অজুহাত দেখাও।
তাই তো আমি ভয় পাই,
যখন বলো তুমি, ভালোবাসো আমায়।
[কবি আলেয়া মান্নানের ৯০টিরও বেশি কবিতা জাতীয় পত্রিকা ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে]
কবি : পরিচিতি
কবি আলেয়া মান্নান
পিতা- মরহুম ইমাম হোসাইন
মাতা- মোসা. জুবাইদা খাতুন
জন্মস্থান -নেত্রকোনা জেলা
কলমাকান্দা উপজেলা
