ইরানে হামলা স্থগিত ঘোষণা ট্রাম্পের

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দ্রুত একটি চুক্তি করার শর্তে তিনি ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা বাতিল করেছেন।রোববার (২ আগস্ট) ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ কথা জানান।

তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির পৃথক ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকির পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ঘোষণা আসে।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত।তবে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলো যেকোনো হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে এবং একটি সমঝোতা চুক্তির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এই সমঝোতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, (ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর) এই অনুরোধের ভিত্তিতে এবং দ্রুত একটি চুক্তি সম্পন্ন করার শর্ত সাপেক্ষে বিশ্বের ভবিষ্যৎ কল্যাণ ও একটি সফল-সমৃদ্ধ ইরানের টিকে থাকার স্বার্থে আক্রমণ বাতিল করতে সম্মত হয়েছি।

ট্রাম্প আরও লেখেন, ইসরায়েলও এই প্রতিশ্রুতির বিষয়ে তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়, শুক্রবার ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে সাংবাদিকদের সামনেই ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘ভয়াবহ আঘাত হানবে’ এবং একপর্যায়ে ইরান ‘আর সহ্য করতে পারবে না’।

অ্যাক্সিওস খবর দেয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান শনিবার ট্রাম্পকে ফোন করে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। রয়টার্সও ওই ফোনালাপের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ট্রাম্পের ঘোষণার আগে থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শনিবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

তিনি সতর্ক করে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক পদক্ষেপে সহযোগিতা করা পশ্চিম এশিয়ার যে কোনো দেশ “যুদ্ধের আগুনে ভস্মীভূত হবে।”

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে আলাপে আরাকচি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর মার্কিন হামলার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।

ইরানের সংবাদমাধ্যম নূরনিউজের শনিবার বলা হয়, ইরানি জ্বালানি অবকাঠামোতে মার্কিন হামলা হলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং ইসরায়েলের তেল ও গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে এবং “সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হবে।”

এদিকে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কায় পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় বলা হয়, পরিস্থিতির অবনতি হলে বিমান চলাচল ব্যাহত হতে পারে, আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

তাই প্রয়োজন হলে দ্রুত এলাকা ছাড়ার জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় মার্কিন নাগরিকদের।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করে ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকেই ওই অঞ্চলে সংঘাত চলছে।

এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা জুনে ভেঙে যায়। সম্প্রতি মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার প্রতিশোধ হিসেবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের ওপর একদফা শক্তিশালী হামলা চালানোর কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

এই সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রবল ধাক্কা লেগেছে। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি তেলের দাম অস্থির হয়ে আছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, কেবল জুলাই মাসেই বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৪ শতাংশ বেড়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *