জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মোজাফফর সেনা হেফাজতে

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়ার লক্ষ্যারচর শিকলঘাটায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মোজাফফরকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। যে আইনে শহীদ রাষ্ট্রপতি হত্যার বিচার করা হয়েছিল সে আইনেই তার বিচার করা যায়। বিষয়টি সেনাবাহিনী খতিয়ে দেখছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকার সব উদ্যোগ নিচ্ছে। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি মৎস্য এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।’

দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। তার গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এলো। সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘদিন প্রতিবেশী ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে ছদ্মনাম ব্যবহার করে তিনি সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যদের হাতে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ঘটনার আগের দিন দুই দিনের সফরে চট্টগ্রামে যান জিয়াউর রহমান। সফরের উদ্দেশ্য ছিল বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিরোধ মীমাংসা করা। সারা দিন বৈঠক শেষে রাতে তিনি সার্কিট হাউসে অবস্থান নেন। ভোরে একদল সেনা কর্মকর্তা সেখানে হামলা চালালে তিনি নিহত হন। পরে রাষ্ট্রীয় বেতারে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রচার করা হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়, ‘বিপ্লবী পরিষদ’ পরিচয়ে একদল সেনাসদস্য এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এরপর উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। হত্যাকাণ্ডের পর জিয়ার মরদেহ গোপনে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একটি পাহাড়ি এলাকায় দাফন করা হয়। পরে সরকারি উদ্যোগে মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকায় এনে সে বছর ২ জুন জাতীয় সংসদ ভবনের পাশে দাফন করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর ওই সেনাসদস্যরা চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় পুরো শহর কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তাঁরা রাষ্ট্রপতির মরদেহ সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ পরিস্থিতিতে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ৩১ মে দুপুর ১২টার মধ্যে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মনজুরসহ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। কিন্তু আত্মসমর্পণের পরিবর্তে মেজর জেনারেল মনজুরসহ কয়েকজন কর্মকর্তা সেনানিবাস ত্যাগ করে পালিয়ে যান।

পরদিন ১ জুন হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহবুব চট্টগ্রাম থেকে পালানোর সময় সরকারি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন বলে জানানো হয়। একই সময়ে মেজর জেনারেল মনজুরকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ২ জুন ফটিকছড়ির একটি চা-বাগান থেকে মনজুরকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নেওয়ার পথে একদল উচ্ছৃঙ্খল সৈন্যের হাতে তিনি নিহত হয়েছেন বলে সে সময় সরকারিভাবে জানানো হয়।

এই অভ্যুত্থানের ঘটনায় ১৮ জন সেনা কর্মকর্তার সামরিক আদালতে বিচার হয়। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে দুই সেনা কর্মকর্তা মেজর খালেদ ও মেজর মোজাফফর পালিয়ে যান। তাঁদের দুজনকেই ধরিয়ে দিতে সে সময় পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর তাঁদের একজন, মেজর মোজাফফর হোসেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *