বারিধারায় গাড়িচাপায় মৃত্যু: কিশোরের জামিন নামঞ্জুর

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত কিশোর আজান আলী শরীফের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির এই আদেশ দেন।এরপর তাকে ফের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধনাগার) পাঠানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ওই কিশোরের পক্ষে আজ জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।

ওই কিশোরের পক্ষে আদালতে জামিন শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান। আদালতকে তিনি বলেন, সেদিন চালক কৌশলে বাঁ পাশ দিয়ে বের হয়। ওই শিশু নির্দোষ। 

বিচারককে তিনি বলেন, ‘এই মামলায় আপনার জাজমেন্ট হচ্ছে ৩ লাখ বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা। কিন্তু আমরা এটা আগেই দিয়ে এসেছি ভুক্তভোগী পরিবারকে। বাদীপক্ষ আদালতে এসেছে। তাদের আপত্তি নেই।’ এ সময় বেঞ্চে বসে থাকা নিহত নির্মাণশ্রমিকের বাবা ও ভাই সামনে গিয়ে দাঁড়ান।

ওই কিশোরের আইনজীবী বলেন, ‘সে ( আজান আলী শরীফ) একজন শিশু। সে জামিনের হকদার।’ এ সময় আদালত জিজ্ঞাসা করেন, ‘হাজত খাটছে কত দিন?’ উত্তরে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘আজ ১২ দিন হাজত খাটছে।’ 

পিপি বলেন, এটা একটা চাঞ্চল্যকর মামলা। ওই কিশোরের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তার গাড়ি চালানোর কোনো অনুমতি নেই। জামিনে আপত্তি আছে। বিচারক বলেন, শিশুর কি আর লাইসেন্স থাকে? এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, ড্রাইভিং সিটে ওই শিশু ছিল না।

বিচারক বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে এটা দেখা গেছে যে সে (ওই কিশোর) ওই দিক থেকে বের হচ্ছে। এখন জামিন পেলে এই মেসেজটা যাবে যে এমন অপরাধ করে, এমন বেপরোয়া গাড়ি চালিয়েও বের হওয়া যাবে। সমাজের কাছে একটা খারাপ মেসেজ যাবে। এই ঘটনাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়ে যাবে। আইন-বিচারকে বিত্তবানেরা ও শিশুরা সহজ ভাববে।’

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।

গাড়ির কাগজপত্র অনুযায়ী, সেটি সিগমা আব্বাস নামে এক নারীর নামে নিবন্ধিত। তাঁর স্বামী আব্বাস আলী শরীফ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন।

গ্রেফতার ১৬ বছর বয়সী কিশোর আজান আলী শরিফ একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ‘ও’ লেভেলে পড়ে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর একই আদালত কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধনাগার) পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। সেদিন ওই কিশোরের পক্ষে আদালতে জামিনের আবেদন দাখিল করলে আদালত ২৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য রাখেন। সেদিন আদালত আংশিক শুনানি শেষে আজ উচ্চতর শুনানির দিন ধার্য রাখেন।সমাজের কাছে একটা খারাপ মেসেজ যাবে। এই ঘটনাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়ে যাবে। আইন-বিচারকে বিত্তবানেরা ও শিশুরা সহজ ভাববে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা কূটনৈতিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে গেলে সেখানে থাকা নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মীরকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান-১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ওই কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর একই ট্রাইব্যুনাল তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধনাগার) পাঠানোর আদেশ দেন। সেদিন তার জামিনের আবেদন করা হলে আদালত ২৫ সেপ্টেম্বর আংশিক শুনানি শেষে আজ রোববার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন।

এ ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদীর ইসলাম। এজাহারে ওই কিশোরের নাম উল্লেখ না করে আকাশ মারাক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে গাড়িচালক হিসেবে আসামি করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারকে ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে আপস করার কথা জানিয়েছিলেন অভিযুক্ত কিশোরের আইনজীবী।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *