অপ্রতিম হত্যা: ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মামলায় চার ঘাতককে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। 

পুলিশ জানায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই কিশোরসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে। আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

চার্জশিটে আসামি করা হয়েছে-সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সি দুই কিশোরকে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী, অভিযোগপত্রে ওই দুই কিশোরকে শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বর্তমানে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে। এর আগে গত ২০ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে চার্জশিট এখনো আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। 

নিহত অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি বৃহস্পতিবার রাতে শুনেছি। তবে কাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বিস্তারিত কিছু জানি না। আমি দ্রুত মামলার রায় দেওয়ার দাবি করছি। 

তিনি বলেন, দুই আসামির বয়স কম দেখানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বয়স পুনর্নির্ধারণের করে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ বলেন, গত ২০ অক্টোবর কোর্ট পরিদর্শকের কাছে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানাবেন। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট প্রস্তুত করে আদালতে দাখিল করা হয়েছে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। 

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অপ্রতিমের মুঠোফোনের অবস্থান শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।

পরদিন (১৯ সেপ্টেম্বর) শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। তার মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটির রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর হয়েছিল।

পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। আসামিদের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। এরপর কুমিল্লাজুড়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *