✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
সর্বশেষ:: পিছু হটছে না সিজেপি, কাল যন্তর মন্তরে আবার কর্মসূচি ঘোষণা
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে রোববার দিল্লির আবার যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সিজেপির ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে শিন্ডে লেখেন, মোদি সরকার ভয় পাচ্ছে। আমরা আবার একজোট হলে তাদের ক্ষমতার গদি টলে যেতে পারে।
কিন্তু আমরা পিছু হটছি না! আগামীকাল আবার যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল করব। আমাদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করব।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে উত্তাল ভারতের রাজধানী দিল্লি। শনিবার (১০ অক্টোবর) শহরজুড়ে চালানো ব্যাপক ধরপাকড় ও অভিযানে প্রায় ৭ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল। রাতে নারী ও প্রবীণসহ অনেককে ছেড়ে দেওয়া হলেও সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এখনো পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
এদিকে শনিবারের দমনপীড়নের পরেও পিছু হটছে না সিজেপি। সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে রোববার (১১ অক্টোবর) ফের যন্তর মন্তর অভিমুখে যাত্রার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। অন্যদিকে, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র পক্ষ থেকে বড় ধরনের কর্মসূচি ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
যাঁরা এখনো আটক আছেন
দিল্লি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে বিমান থেকে নামার পরপরই আটক হওয়া সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে এখনো মুক্তি দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে হিংগোলিতে নিজ গ্রামে বার্ধক্যজনিত কারণে দাদির মৃত্যুর সংবাদ পেলেও অভিজিৎ দীপকেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে রাতেও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। অন্যদিকে, গুরুগ্রাম থেকে আটক জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও এখনো পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
এর আগে আটক হওয়া চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী—আপের অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেরালার পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার মানিক সরকারসহ রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষনেতারা রাতে মুক্তি পান। তবে মুক্তির পরই সরকারবিরোধী আন্দোলনে সুর চড়ান তাঁরা।
তাঁদের আগে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকেও মুক্তি দেওয়া হয়।
জেলে জায়গা ফুরিয়ে যাবে: কেজরিওয়াল
বাড়ি থেকে যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে পুলিশি আটকের শিকার হন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মুক্তি পাওয়ার পর মোদি সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘এত মানুষকে আটক করার পর আমি মোদিজিকে বলতে চাই—আপনাদের জেলখানায় বন্দীদের রাখার জায়গা ফুরিয়ে যাবে!’
মুখের ওপর ব্যান্ড-এইড লাগিয়ে প্রতিবাদ জানানো পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজধানীর পরিস্থিতিকে ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ বা চরম জরুরি অবস্থা বলে আখ্যা দেন। অন্যদিকে, চেন্নাই থেকে ভিডিওবার্তায় লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের সবাইকে গ্রেফতার করুন। আমরা পিছু হটছি না।’
বিজেপির প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সরকারের পক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজেপি মুখপাত্র রবি শংকর প্রসাদ বিরোধী দলের এই আন্দোলনকে বেশ কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভারত কোনো কলা প্রজাতন্ত্র (Banana Republic) নয়। দেশের শাসন চলবে সংসদ দিয়ে, রাজপথের বিশৃঙ্খলা দিয়ে নয়।’
শনিবারের কর্মসূচিতে মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ রাখা, ২৫০টির বেশি ট্রেন বাতিল এবং যন্তর মন্তরের চার কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখার পাশাপাশি ২৫ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন ছিল। রোববারেও এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ইন্ডিয়া জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ
নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাম বাদ দেওয়া এবং ইভিএম বাদ দিয়ে ব্যালট পেপারে ফেরার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বিরোধী শিবির। সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
