সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ২

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎

সৌদি আরবের দাম্মামে বাদশাহ ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে গভীর রাতে চালানো এক হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ আহত হয়েছেন আরও আটজন।

এদিকে হামলায় আহত দুই বাংলাদেশির বিস্তারিত পরিচয় ও বর্তমান শারীরিক অবস্থার তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবার রাতের হামলায় একজন সৌদি ও একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত আটজনের মধ্যে রয়েছেন একজন সৌদি, দুজন ভারতীয়, দুজন ইয়েমেনি, দুজন বাংলাদেশি এবং একজন নেপালি নাগরিক।

আহত ব্যক্তিদের আঘাতের মাত্রা সামান্য থেকে গুরুতর পর্যায়ের। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট ধরন সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

জিএসিএ আরও জানায়, হামলার পর বিমানবন্দরটির পরিচালন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে এবং আকাশযান চলাচল এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ চলছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মাসেই সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে চালানো হামলায় মোট ২২ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে গত ১১ অক্টোবরও বাদশাহ ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। একের পর এক হামলার কারণে রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছিল এবং দেশটির বড় একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনও স্থগিত করা হয়।

এর আগে বুধবার দিনের শুরুতে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের শায়বাহ তেলক্ষেত্রে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় আঘাত হানার চেষ্টাকালে একটি ড্রোন ভূপাতিত করে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুজন নিহত এবং দুজন আহত হন। ধ্বংসাবশেষের কারণে এক ঠিকাদারের গাড়িতে আগুন ধরে গেলেও তেলক্ষেত্রের পরিচালন কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও মদিনা অঞ্চল লক্ষ্য করে পাঠানো আরও পাঁচটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

গত জুলাই মাসে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে দেশটিতে সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ নেয়। বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করে হুতি বিদ্রোহীরা। এরপর তারা সৌদি আরবের ভূখণ্ড, তেল স্থাপনা ও জাহাজে ধারাবাহিক হামলা শুরু করে। গত সেপ্টেম্বরে হুতিরা বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে লোহিত সাগর উপকূলের সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকা দখল করে। এর জবাবে সৌদি বিমানবাহিনীও হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে নিয়মিত বিমান হামলা চালিয়ে আসছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *